ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর সপরিবারে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। এরই মধ্যে তিনি মার্কিন ভূখণ্ডে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিবিসিকে জানান, ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফ্লাভিও ব্রাজিল ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ব্রাজিলে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বার্থে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ফ্লাভিও দেশ ছেড়ে চলে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি বরাবরই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

কর্তৃপক্ষের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার ফ্লাভিওর পাসপোর্টগুলো বাতিল করা হয়। এর ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় এবং তিনি দেশ ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসি ব্রাজিল ও বিবিসি মুন্দোকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি তাঁর ছোট ভাই এদুয়ার্দোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে ফ্লাভিও ঠিক কীভাবে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে দুই ভাইয়ের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাভিও সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, ফ্লাভিও এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রদান করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে পরিবারের ঠিক কোন কোন সদস্য তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।

এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল—উভয় দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

বিবিসি ব্রাজিল ও বিবিসি মুন্দোকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো পুনরায় জানিয়েছে যে, ফ্লাভিও ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তাঁর ছোট ভাই এদুয়ার্দোর সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে তাঁর দেশ ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

গত সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই সময়ে ফ্লাভিও জানিয়েছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি ব্রাজিলে থেকেই বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরোধিতার নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য, গত রোববারের নির্বাচনে ফ্লাভিওকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন লুলা।

পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ফ্লাভিওর আইনজীবীরা বিবিসি ব্রাজিলকে জানান, ফ্লাভিও বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

গত সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন ফ্লাভিও। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ফ্লাভিও ব্রাজিল ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনায় পালিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফেডারেল কর্মকর্তারা সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। তবে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, সিনেটর ফ্লাভিওর আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করার কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।

ব্রাজিলে গত রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিওকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন ৮১ বছর বয়সী লুলা।

এবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা জাগিয়ে হেরেছেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ডানপন্থী এই প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি তুলেছিলেন।

ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করেন, তবে গত রোববার তাঁকে মিয়ামিতে দেখা গেছে।