চকোলেট খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মন খারাপ হলে এক টুকরো চকোলেট, জন্মদিনে চকোলেট কেক অথবা প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে চকোলেট দেওয়ার চল অনেক দেশেই আছে। শিশু থেকে শুরু করে বড়দের কাছেও চকোলেট জনপ্রিয়। এই মিষ্টি খাবারটির প্রতি ভালোবাসা উদ্‌যাপন করতেই প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর পালিত হয় ন্যাশনাল চকোলেট ডে।

দিনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়। এদিন অনেকেই নিজের পছন্দের চকোলেট খান, নতুন কোনো চকোলেটের স্বাদ নেন বা চকোলেট দিয়ে তৈরি নানা খাবার উপভোগ করেন। তবে চকোলেটকে ঘিরে উদ্‌যাপনের দিন শুধু একটিই না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে চকোলেট দিবস পালিত হয়।

চকোলেট শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় না। এর ইতিহাস, তৈরি করার পদ্ধতি এবং নানা মজার তথ্যও বেশ আকর্ষণীয়।

কোন কোন দেশে পালিত হয় চকোলেট দিবস?

চকোলেট দিবসের তারিখ সব দেশে এক না। বিভিন্ন দেশে আলাদা দিনে চকোলেটকে ঘিরে উদ্‌যাপন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র: প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর ন্যাশনাল চকোলেট ডে পালিত হয়। এদিন চকোলেটপ্রেমীরা নানা ধরনের চকোলেট ও চকোলেট দিয়ে তৈরি খাবার উপভোগ করেন।

ঘানা: বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোকো উৎপাদনকারী দেশ ঘানায় ১৪ ফেব্রুয়ারি চকোলেট ডে পালিত হয়। ভ্যালেন্টাইনস ডের সঙ্গে মিল রেখে এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশটির স্থানীয়ভাবে তৈরি চকোলেটের প্রচার এবং কোকোশিল্পকে উৎসাহিত করা হয়।

লাটভিয়া: দেশটিতে ১১ জুলাই চকোলেট দিবস পালনের কথা বিভিন্ন দিবস-সংক্রান্ত সূত্রে উল্লেখ আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ: ৭ জুলাই ওয়ার্ল্ড চকোলেট ডে পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ এই দিনটি উপলক্ষে চকোলেট খাওয়া, উপহার দেওয়া এবং চকোলেট দিয়ে তৈরি খাবার উপভোগ করেন। তবে সব দেশে দিনটি সরকারি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত না।

তাই ২৮ অক্টোবরের ন্যাশনাল চকোলেট ডে এবং ৭ জুলাইয়ের ওয়ার্ল্ড চকোলেট ডে এক বিষয় না। চকোলেটকে কেন্দ্র করে একাধিক দিবস থাকায় তারিখ নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

চকোলেটের ইতিহাস কত পুরোনো?

চকোলেটের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। এর মূল উপাদান কোকো পাওয়া যায় কোকো গাছের ফলের বীজ থেকে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে কোকো দিয়ে পানীয় তৈরি করে খাওয়ার প্রচলন ছিল। মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ কোকোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

তবে তখনকার কোকোর পানীয় আজকের মতো মিষ্টি ছিল না। এতে বিভিন্ন মসলা মেশানো হতো এবং অনেক সময় পানীয়টি তেতো স্বাদের হতো। পরে ইউরোপে কোকো পৌঁছানোর পর এর সঙ্গে চিনি মেশানোর প্রচলন বাড়ে। ধীরে ধীরে চকোলেট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং একসময় শক্ত চকোলেট বার তৈরির পথ তৈরি হয়।

আজ চকোলেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টি খাবার। এটি শুধু বার আকারেই নয়, কেক, বিস্কুট, আইসক্রিম, পানীয় ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

চকোলেট সম্পর্কে ৭টি মজার তথ্য

চকোলেট আসে গাছের বীজ থেকে

চকোলেটের মূল উপাদান কোকো। কোকো গাছের ফলের ভেতরে থাকা বীজ সংগ্রহ করে গাঁজন, শুকানো, ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে চকোলেট তৈরির উপাদান পাওয়া যায়। অর্থাৎ চকোলেট তৈরির যাত্রা শুরু হয় একটি ফল থেকে।

সব চকোলেটের স্বাদ এক না

ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট চকোলেট দেখতে ও খেতে আলাদা। ডার্ক চকোলেটে সাধারণত কোকোর পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এর স্বাদ কিছুটা তেতো হতে পারে। মিল্ক চকোলেটে দুধ ও চিনি যোগ করা হয়। অন্যদিকে হোয়াইট চকোলেটে কোকো সলিড থাকে না, তবে কোকো বাটার থাকে।

একসময় চকোলেট পানীয় হিসেবে বেশি জনপ্রিয় ছিল

আজ আমরা চকোলেট বলতে সাধারণত বার বা মিষ্টি খাবার বুঝি। কিন্তু প্রাচীন মধ্য আমেরিকায় কোকো দিয়ে তৈরি পানীয়ের প্রচলন ছিল। অর্থাৎ চকোলেটের ইতিহাসে পানীয়ের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

চকোলেট তৈরিতে কোকো বাটার গুরুত্বপূর্ণ

কোকো বাটার হলো কোকো বীজ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক চর্বি। এটি চকোলেটকে মসৃণ গঠন দিতে সাহায্য করে এবং মুখে দিলে সহজে গলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যের পেছনেও এর ভূমিকা আছে।

চকোলেটের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক আছে

চকোলেট খেলে অনেকের মন ভালো লাগে। এর পেছনে স্বাদ, ঘ্রাণ, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও মস্তিষ্কের পুরস্কার-সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়া কাজ করতে পারে। তবে চকোলেট খেলেই যে মন খারাপ বা মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে, এমন না।

চকোলেট শুধু মিষ্টি খাবারেই ব্যবহার হয় না

চকোলেট দিয়ে কেক, ব্রাউনি, কুকিজ, আইসক্রিম ও নানা ধরনের পানীয় তৈরি করা হয়। কিছু রান্নায়, বিশেষ করে মেক্সিকোর কিছু ঐতিহ্যবাহী সসেও কোকো বা চকোলেট ব্যবহার করা হয়। সেখানে এটি খাবারের স্বাদে আলাদা গভীরতা যোগ করে।

ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

ডার্ক চকোলেটে কোকো থেকে পাওয়া ফ্ল্যাভানলসহ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে। গবেষণায় কোকোর কিছু উপাদানের সঙ্গে রক্তনালির কার্যকারিতার সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে চকোলেটের ধরন, কোকোর পরিমাণ, চিনি ও ক্যালরির হিসাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

চকোলেটকে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক না। বিশেষ করে বেশি চিনি ও চর্বিযুক্ত চকোলেট অতিরিক্ত খেলে খাদ্যতালিকায় অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ হতে পারে। তাই চকোলেট খেতে চাইলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।