ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের বিষয়ে আজ বুধবার আদালতের সিদ্ধান্ত হতে পারে। আজ তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সাথী আক্তারের পক্ষে গত সোমবার কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আগের আদেশ অনুযায়ী, আজ তাঁকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।”
মোস্তাছিনুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ যদি সাথী আক্তারের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়, তবে আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে জামিনের আবেদন না করা হলে অথবা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত কী পদক্ষেপ নেবেন, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। আদালত চাইলে আসামিকে নিজ জিম্মায় জামিন দেওয়ার সুযোগও রাখেন।
জানা গেছে, ৩০ বছর বয়সী সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পারলার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর কন্যা।
গত রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই ভিডিও দুটিতে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওর একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, তিনি ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিওটি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য ওই নারীর বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। এই বিশৃঙ্খলা রোধ করতে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।