মিরপুর টেস্টের ভাগ্য এখন কার হাতে? বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নাকি প্রকৃতির খেলায় ‘অর্ণব’র হাতে? এই টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র প্রভাব পড়তে পারে। ঢাকায় আজ টেস্টের প্রথম দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং গতকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী পরবর্তী দুই দিনেও বৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ কোনোভাবেই চাইবে না যে ‘অর্ণব’র বাধা আসুক কিংবা এই টেস্টটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুকূলে যাক। কারণ আগামী ১৪ জুন লর্ডসে শুরু হতে যাচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের ফাইনালে পৌঁছাতে হলে বর্তমান চক্রের হাতে থাকা ছয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত চারটিতে জয়লাভ করতে হবে। আর সেই যাত্রার শুরু তারা করতে চায় এই মিরপুর টেস্ট দিয়ে। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকায় আট নম্বরে থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের তেমন কোনো চাপ নেই। তারা যদি সেরা পাঁচে থেকে এই চক্র শেষ করতে পারে, তবেই তারা সন্তুষ্ট থাকবে, কারণ এতে কিছু বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

ছয় টেস্টে চার জয়ের লক্ষ্যটি বাংলাদেশের জন্য আগে হয়তো কল্পনার মতো মনে হতো। তবে গত আগস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্ম এই আশাকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া বাকি প্রতিপক্ষগুলো খুব সহজ নয়। এই সিরিজের পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টেস্ট রয়েছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আসবে।

তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনকে যদি বলা হয় যে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার জন্য ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জেতা জরুরি, তবে তিনি সম্ভবত সেই আলোচনায় যেতে আগ্রহী হবেন না। গতকাল মিরপুরে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতি থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাজমুল জানিয়ে দেন, “এখনই অত দূরে চোখ না রেখে তিনি চাইছেন ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করে এগোতে। ছোট ছোট সাফল্যের যোগফলেই আসে বড় সাফল্য।”

অর্থাৎ, সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টের কথা চিন্তা না করে বাংলাদেশের বর্তমান লক্ষ্য হলো মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করা। এর জন্য বোলারদের দুই ইনিংসে মোট ২০টি উইকেট নিতে হবে। পেস শক্তির ওপর ভর করে বাংলাদেশ এখন সেই সক্ষমতা রাখে। তবে ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় বোলিং আক্রমণটি পেস-নির্ভর হবে নাকি স্পিন-নির্ভর, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। একাদশ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেওয়া কঠিন।

তবে একটি বিষয়ে গতকালই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১৫ জনের স্কোয়াডের কাউকেই বিবেচনার বাইরে রাখতে হচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্টকে। এর অর্থ হলো, আগে থেকেই চোট পাওয়া লিটন দাস এবং গতকাল নেটে ব্যাটিং করার সময় হাতে বলের আঘাত পাওয়া মুশফিকুর রহিম—দুজনই মিরপুর টেস্টে খেলার মতো অবস্থায় আছেন।

মুশফিকের আঙুলের এক্স-রে করা হয়েছে এবং তাতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। ঝুঁকি এড়াতে লিটনের ফিটনেস টেস্ট করানো হয়নি, তবে গতকাল তিনি স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং ও কিপিং অনুশীলন করেছেন, তাই তাঁকে খেলার মতো অবস্থায় ধরা হচ্ছে। সহজ কথায়, টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে মিরপুর টেস্টে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নিতম্বের সংযোগস্থলের চোট লিটন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছেন। তাঁর বর্তমান সমস্যাটি ছিল শরীরের কিছু অংশে মাংসপেশির আড়ষ্টতা। এই অবস্থায় ফিটনেস টেস্ট দিলে তিনি ‘ফিট’ ঘোষিত হতেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে অনুশীলনে কোনো সমস্যা না হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে ফিট মনে করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই।

প্রথম টেস্টের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কোনো চোটের খবর পাওয়া যায়নি। তাদের প্রস্তুতিও যথেষ্ট মজবুত। চেন্নাইয়ে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পের পর ঢাকায় এসে গত কয়েক দিনের অনুশীলন এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ—ভিনদেশের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।

তবে মিরপুরের উইকেট নিয়ে রোস্টন চেজদের মনে কিছুটা দ্বিধা থাকতে পারে। আর সেটাই স্বাভাবিক, কারণ মিরপুরের উইকেট বাংলাদেশ নিজেই অনেক সময় ঠিকভাবে পড়তে পারেনি।