‘খুব খুব দুঃখের দিন।’

আরসেনাল কোচ মিকেল আরতেতার এই কথাটিই যেন বর্তমান পরিস্থিতির এক করুণ প্রতিফলন। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এক অভাবনীয় অঘটনের সাক্ষী হয়ে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল কারাবাও কাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা হেরেছে চতুর্থ স্তরের এক সাধারণ দলের কাছে, যারা ফুটবল পিরামিডের হিসেবে আর্সেনালের চেয়ে ৮৪ ধাপ নিচে অবস্থান করছে। ম্যাচের আগে ড্রাফটকিংসের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লিটউডের জয়ের সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ এবং বাজির দর ছিল ১-এ ১৫ (প্লাস ১৫০০)।

তবে হাইবুরি স্টেডিয়ামের মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব উল্টে গেল। কারাবাও কাপের ৬৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে অন্যতম বড় এক চমক দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করল ফ্লিটউড টাউন। আরতেতার জন্য এই পরাজয় ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

ম্যাচের শুরুতে আতশবাজির ঝলকানিতে চ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানানো হলেও শুরুতেই বাধা আসে। মাঠের ওপর ড্রোন উড়তে দেখে রেফারি খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন এবং খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। আট মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে আর্সেনালকে কিছুটা অপ্রস্তুত মনে হচ্ছিল।

সেই সুযোগটিই কাজে লাগায় ফ্লিটউড। ম্যাচের ২১ মিনিটে ফরোয়ার্ড অ্যারন লুপালোর গোলে লিড নেয় তারা। তবে ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োরকেরেসের গোলে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়ার আগে আর্সেনাল ১০ জনের দলে পরিণত হয়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে লাথি মারার অপরাধে ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ম্যাক্স ডাউম্যান।

ম্যাচটিকে পেনাল্টি শুটআউটে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা পালন করেন ফ্লিটউড গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে দুটি অসাধারণ সেভ করেন তিনি। টাইব্রেকারেও তার দাপট বজায় থাকে; ব্রুনো গিমারায়েসের শট ঠেকিয়ে দেন লিঞ্চ। সবশেষে কিশোর ডিফেন্ডার কনর হহি লক্ষ্যভেদ করলে ৫-৩ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিগ টু পয়েন্ট তালিকার ১৮তম স্থানে থাকা এই দলটি।

ফ্লিটউড ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রথমবার তারা এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এই ক্লাবটি মূলত স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডির কারণে পরিচিতি পেয়েছিল, যিনি লেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে এখানে একটি মৌসুম খেলেছিলেন।

এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর স্কাই স্পোর্টসকে ফ্লিটউড কোচ ম্যাট ললোর উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না। যেকোনো বড় দল আমাদের মাঠে খেলার বিচারে এটা ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাত আর আমরা সেই চ্যাম্পিয়নদেরই হারিয়ে দিলাম!’

মূল একাদশে নয়টি পরিবর্তন করলেও কাই হাভার্টজ ও ডাউম্যানের মতো তারকাদের নিয়ে শক্তিশালী দলই মাঠে নামিয়েছিলেন আরতেতা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মার্টিন ওডেগার্ডও। তবে এই হারের পর আরতেতা বলেন, ‘পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য সবার আগে ফ্লিটউডকে অভিনন্দন জানাই। তারা যেভাবে এটা করেছে সেটা বিচারে আমাদের জন্য খুব খুব দুঃখের দিন। খেলোয়াড়দের মানসিকতা বা নিবেদনে খামতি ছিল না, তাদের সমালোচনা করার সুযোগ নেই...এটাই ফুটবল, এটাই এই প্রতিযোগিতার সৌন্দর্য। আজ আমাদের সত্যিই মন খারাপের দিন।’

উল্লেখ্য, ইংলিশ ফুটবলের চতুর্থ স্তরের দলের কাছে হেরে লিগ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনাটি আর্সেনালের জন্য দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্র্যাডফোর্ড সিটির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরেছিল বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই দলটির কথা মনে করিয়ে দেয় এই ম্যাচ।