মাঠের পাশে মিকেল আরতেতার অস্থিরতা ও ছটফটানি এখন ফুটবল বিশ্বের এক পরিচিত দৃশ্য। কখনো উচ্চস্বরে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়া, আবার কখনো উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে টেকনিক্যাল এরিয়ার সীমানা অতিক্রম করা—আর্সেনাল ম্যানেজারের এই আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে রেফারিদের কাছে এই আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, যার ফলে বারবার হলুদ কার্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।
গতকাল এভারটনের বিপক্ষে ২–০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচেও হলুদ কার্ড দেখেছেন আরতেতা। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান মৌসুমে এটি তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। নিয়ম অনুযায়ী, আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচে ডাগআউটে বসতে পারবেন না এই স্প্যানিশ কোচ।
তবে আরতেতার দাবি, রেফারিরা তাঁর প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা প্রদর্শন করছেন। তাঁর মতে, অন্য কোচরা একই ধরনের নিয়ম ভঙ্গ করলেও রেফারিরা তা এড়িয়ে যান। এই বৈষম্যের অভিযোগ প্রমাণ করতে এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করছেন তিনি। অন্য কোচদের টেকনিক্যাল এরিয়ার বাইরে যাওয়ার ছবি ও ভিডিওর একটি বিশাল সংগ্রহ গড়ে তুলছেন আরতেতা।
এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আরতেতা বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে এমন কোচও আছেন, যিনি ১০ মিনিটে ৩৬ বার টেকনিক্যাল এরিয়া ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। অথচ একবারও হলুদ কার্ড দেখেননি।’
নিজের অভিযোগকে কেবল কথার কথা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। অন্য কোচদের নিয়ম ভাঙার দৃশ্য নিয়মিত সংরক্ষণ করার কথা জানিয়ে আরতেতা বলেন, ‘আমি এসব দৃশ্যের ক্লিপ জমাচ্ছি। আমার কাছে ছবির বিশাল সংগ্রহ আছে।’
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন কোচদের জন্য নির্ধারিত টেকনিক্যাল এরিয়ার ভেতরে থাকতেই হয়। কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে আরতেতা প্রায়ই সেই সীমা অতিক্রম করেন। ডাগআউটের সামনে তাঁর এই ছোটাছুটি অনেক সময় মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি উত্তেজনা তৈরি করে।
এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল যথেষ্ট উত্তপ্ত। রেফারি টনি হ্যারিংটন শুধু আরতেতাকেই নয়, বরং এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস এবং আরতেতার সহকারী গ্যাব্রিয়েল হেইনজেকেও হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন। মাঠের লড়াইয়ে এজরি কনসা ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের গোলে জয়লাভ করেছে আর্সেনাল। এই জয়ের ফলে তারা পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্ট অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, একই দিনে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ২–১ গোলে হেরেছে সিটি।
দলের এই সাফল্যের মাঝেও আরতেতার মাথায় এখন হলুদ কার্ডের চিন্তা। আরেকটি কার্ড পেলে এক ম্যাচ ডাগআউটে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিজেকে কীভাবে সামলাবেন সে বিষয়ে রসিকতা করে আরতেতা বলেন, ‘আমাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আর সেখানে আমাদের ভালো সেন্সর বসাতে হবে।’