রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই বলে দাবি করে তারা এর মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
মঙ্গলবার ওই মাঠে সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ চলছিল। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল organizes করেন। মিছিল চলাকালীন তারা মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ এবং দুটি গাড়ি জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি, ওই মাঠের মালিকানা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়া সেখানে অন্য কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এই দাবিতে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মুখে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘শেকৃবিয়ানের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’ এবং ‘টেক ব্যাক টেক ব্যাক’।
আন্দোলনের অন্যতম নেতা আশিক আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এই জায়গাটি আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ছিল। কিন্তু সরকার এখানে সচিবালয় স্থানান্তরের কাজ করছে। আমরা এটি চাই না। এই মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের দাবি এটাই।’
মাটি পরীক্ষার যন্ত্র ও যানবাহন ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার বিষয়ে আশিক আরও জানান, ‘যারা এখন মাঠে কাজ করছে, তারা যন্ত্র এবং গাড়ি ফেরত নিতে এলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হোক। আমরা সেটা চাই।’
বিক্ষোভ মিছিল এবং যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এদিন তাদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা মাঠটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছেন, যার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় এই স্টিয়ারিং কমিটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানোর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বর্তমান কর্মসূচি সম্পর্কে অধ্যাপক সালাহউদ্দিন মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সিদ্ধান্তে কর্মসূচি পালন করছেন, ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন। প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁরা বিবেচনা করছেন।’
অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আরও জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছিলেন যেন তারা আগে পরীক্ষা দিয়ে নিয়ে পরে কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ এবং যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে জানান, এই আন্দোলনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগ। তবে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে মাটি পরীক্ষার কিছু যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত। তিনি বলেন, এসব সরঞ্জাম যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনটি যেন কোনো ধরনের সংঘাতের দিকে না মোড়ে, সেই চেষ্টাও করছেন প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার তারা কালো পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুনরায় কর্মসূচি পালন করবেন।