রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হোক। তারা মনে করেন, রাজধানীর সবুজ পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার স্বার্থে সেখানে বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেকৃবির গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম সালাউদ্দিন এম চৌধুরী বলেন, ‘মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, ঢাকা ও দেশবাসীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি ও পরিবেশবিষয়ক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছি। মাঠের সবুজায়ন, গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে কৃষি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা নয়, ঢাকার পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখা।’
অন্যদিকে, কৃষি রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ঘনবসতিপূর্ণ শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থাপন করা হলে সেখানকার সামগ্রিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মাঠটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার খবরে তাঁদের ক্লাসরুম ছেড়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি পালন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়। তাঁদের অভিযোগ, কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমির তীব্র সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।