মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী।

ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য দলটি দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটিতে yer স্থান পেয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) এবং নূরুল ইসলাম বুলবুল। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পিরোজপুরে সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, এই ঘটনার পেছনে জামায়াতের কোনো সদস্য বা নেতার সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমকে সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। তবে পিরোজপুরে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করাকে কেন্দ্র করে শনিবার চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাঁর দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে সেখানে দাফন না করার দাবি জানান। সেই সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিতে ও সমবেত হতে দেখা যায়।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হক দাবি করেন, ‘মানিক পশারীর দাফনের বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা ছিল না। তবে দাফনের ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতাও ছিল না। কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় দাফন হয়েছে, তা আমরা কিছুই জানি না।’

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন যে, মানিক পশারী প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।