জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডে নিজেদের মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে এই রাউন্ডের বাকি তিনটি ম্যাচ অমীমাংসিত হয়ে ড্র হয়েছে। খেলার শেষ দিনে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সিলেটের অমিত হাসান, যিনি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ পরান নিজের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে ১২টি ছক্কার প্রদর্শনী করেছেন।
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহীকে ইনিংস ও ১০৩ রানে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেছে ঢাকা বিভাগ। এই জয়ের ফলে তারা পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ দিয়েছে। জয়ের জন্য নির্ধারিত ৮ পয়েন্ট এবং ইনিংস ব্যবধানে জেতার বোনাস ১ পয়েন্ট মিলিয়ে মোট ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে ঢাকা। এর আগে তাদের সংগ্রহ ছিল ৬ পয়েন্ট, ফলে এখন তারা ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তবে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে খুলনা বিভাগ। অন্যদিকে, এই টুর্নামেন্টে প্রথম হারের স্বাদ পেতে হয়েছে রাজশাহী বিভাগের।
শেষ দিনে ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল রাজশাহী। তবে তারা খুব দ্রুতই বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র ১১.৩ ওভার খেলেই ২৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। দিনের শুরুতে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির রহমান, কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই তিনি সেই ৬৪ রানেই সাজঘরে ফেরেন। রাজশাহীর শেষ ৪ উইকেট পতন ঘটে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে।
অন্যদিকে বগুড়ায় ময়মনসিংহের বিপক্ষে নজর কাড়লেন চট্টগ্রামের শাহ পরান। গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে তিনি ৯১ রান করেছিলেন। এবার তৃতীয় ম্যাচে এসে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেলেন তিনি। এই ম্যাচে ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটসম্যান। সাত নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ১৬৬ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ১২টি ছক্কা হাঁকান পরান। দশম উইকেটে ইফরান হোসেনের সাথে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি, যেখানে ইফরানের অবদান ছিল মাত্র ৫ রান।
ম্যাচটি ড্র হয়ে গেলেও নাটকীয়তার অভাব ছিল না। চট্টগ্রাম বিভাগ দিন শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ৪২৪ রান নিয়ে। শাহ পরানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৫৯৯ রানে, যার ফলে তারা প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানের বিশাল লিড পায়। দুপুর পৌনে দুইটায় দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ময়মনসিংহ বিভাগ মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা রক্ষা পায়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে খেলা স্থগিত হওয়ার সময় ময়মনসিংহের স্কোর ছিল ৬১/৫।
সিলেটে অনুষ্ঠিত বরিশাল ও রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটিও ড্র হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা রংপুর বিভাগ ৫ উইকেটে ২৮৮ রান তোলার পর দুই দলই ড্র মেনে নেয়। এই ইনিংসে ওপেনার মিম মোসাদ্দেক ১২১ রান এবং পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করা নবীন ইসলাম ১০৪ রান করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই দুজনেরই এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরির অনন্য রেকর্ড গড়লেন সিলেটের অমিত হাসান। শেষ দিনে ১৭১ রানে ব্যাটিং শুরু করা অমিত ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর সিলেট বিভাগ ৬৩২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। এর জবাবে খুলনা বিভাগ প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তোলার পর ম্যাচটি ড্র হয়। উল্লেখ্য, ম্যাচের প্রথম দিনটি বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া অমিত হাসান ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন। টানা তৃতীয় মৌসুমে ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া অমিতের ৩৩৫ রানের বিশাল ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা। এছাড়া গতকাল সেঞ্চুরি করা আশরাফুল হাসান ১১৪ রানে আউট হন।