প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতককে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তবে মাত্র ১৮ রানের ব্যবধানে সেই মাইলফলকটি হাতছাড়া হয়ে গেল তার। রাজশাহীর বিপক্ষে ২৮২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন ঢাকার এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে এক অনন্য রেকর্ড জুটি গড়ে দলকে পাহাড়প্রমাণ সংগ্রহ এনে দিয়েছেন তিনি। এই দুই ব্যাটারের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান তুলেছে ঢাকা বিভাগ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ৩৬৯ বলে ২১টি চার ও ৭টি ছক্কায় ২৮২ রান করেন নাঈম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এর আগে এই ফরম্যাটে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮০।

শনিবার দিনের খেলা শেষে ১৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন নাঈম। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। মধ্যাহ্নবিরতির আগেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক। এরপরও থামেননি তিনি। ৩৪১ বলে আড়াইশ রান পূর্ণ করে আত্মবিশ্বাসের সাথে ট্রিপল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রহিম আহমেদের অফ স্পিনে একটি বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় তিনশ রানের স্বপ্ন।

ট্রিপল সেঞ্চুরি না মিললেও অঙ্কনের সঙ্গে রেকর্ড গড়েছেন নাঈম। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৩৬৩ রানের জুটিটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই নির্দিষ্ট উইকেটে সর্বোচ্চ। ৫৩৪ বল স্থায়ী এই জুটির মাধ্যমে ভেঙে গেছে রাজিন সালেহ ও অলক কাপালির আগের রেকর্ড। ২০১৪-১৫ মৌসুমে সিলেটের হয়ে চতুর্থ উইকেটে ৩৪৮ রান যোগ করেছিলেন তারা।

এই রেকর্ড জুটিতে নাঈমকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন ঢাকার অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ২৮৯ বলে ১৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১৬৫ রান করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। এসএম মেহেরব হাসানের বলে শফিকুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অঙ্কন, যার ফলে শেষ হয় দীর্ঘ এই জুটি।

এর আগে শনিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ঢাকা বিভাগ। আনিসুল ইসলাম ইমন ১৯ এবং আশিকুর রহমান শিবলি ১৬ রান করে আউট হন। অন্যদিকে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মার্শাল আইয়ুব। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলের হাল ধরেন নাঈম ও অঙ্কন। প্রথম দিন শেষে তাদের অবিচ্ছিন্ন ২০৫ রানের জুটিতে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৯৩ রান।

দ্বিতীয় দিনে সেই জুটিকে আরও বড় করেন এই দুই ব্যাটার। অঙ্কন আউট হওয়ার পরও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান নাঈম। শেষ পর্যন্ত দলীয় ৫০৮ রানে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এরপর দ্রুত বাকি উইকেটগুলো হারিয়ে ১৩৪ ওভার ১ বলে ৫২১ রানে অলআউট হয় ঢাকা। রাজশাহীর হয়ে ওয়াসি সিদ্দিকী সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন। রহিম আহমেদ ও আসাদুজ্জামান পায়েল নেন দুটি করে উইকেট।

চলতি এনসিএলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন নাঈম। প্রথম ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে রান না পেলেও, এরপর সিলেটের বিপক্ষে ১৩৭ এবং ময়মনসিংহের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এবার রাজশাহীর বিপক্ষে ২৮২ রান করে টানা তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। চলতি জাতীয় লিগে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

এদিকে ঢাকার বিশাল সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাজশাহী। মাত্র ১০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল। তিনটি উইকেটই তুলে নিয়েছেন ঢাকার পেসার সুমন খান। সর্বশেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, ১২ ওভারে রাজশাহীর সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৫৯ রান। প্রথম ইনিংসে ঢাকার চেয়ে তখনো ৪৬২ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিক রাজশাহী বিভাগ।