কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুধকুমার ও গঙ্গাধার নদীর মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মো. ফজলু মিয়ার। প্রতিকূল পরিবেশ আর সীমাবদ্ধতার মাঝে বড় হওয়া এই তরুণের এখনকার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা।
মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ফজলু মিয়া চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ অর্জন করে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। চলতি বছর সে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, যার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়ে এবং বুয়েটে ভর্তির লক্ষ্য সামনে রেখে বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে এখন থেকেই নিবিড় প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।
কেবল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই ফজলু মিয়ার লক্ষ্য নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান দিয়ে নিজের পরিবার, সমাজ এবং পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার মনে রয়েছে। তার এই স্বপ্ন, নিষ্ঠা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ওই অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালা যে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, ফজলু মিয়ার জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য তারই একটি উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।
একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন দেখা ফজলু মিয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা যেন সফল হয়—এটাই এখন তার শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের একান্ত প্রত্যাশা।