প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপান সফরে যাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী এমন সব ব্যক্তিদের সাথে রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিচ্ছেন, যাঁরা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আওতাভুক্ত নন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে যেন কেবল ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আয়োজনে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী কাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছেন এবং দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ১১-দলীয় শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

১১ দলের ঐক্যের বিষয়ে তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন, এই ঐক্যের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবিতে তাঁরা মাঠে নেমেছেন, কোনো তামাশা করতে নামেননি। এ জন্য তাঁরা কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না।”

মামুনুল হকের মতে, এই ১১-দলীয় ঐক্য কেবল বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার একটি সমঝোতা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি এবং দেশের সঠিক গতিপথ নির্ধারণের একটি বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। এই লক্ষ্য অর্জনে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে, বিরোধী দলগুলোর খুলনা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যদি কোনো পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয় বা দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা চালানো হয়, তবে তা প্রতিহত করেই কর্মসূচি সফল করা হবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাওলানা মামুনুল হক। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের আস্থার অভাব রয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় অনুসারীদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তাঁর মনে উৎকণ্ঠা রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আর যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন মামুনুল হক। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির মুখে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ের কথা আসা অত্যন্ত আতঙ্কজনক।

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন অধিবেশনে সরকারের এজেন্ডাগুলো কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলকে সাথে নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা আছে কি না, তা নিয়ে তাঁরা সন্দিহান।

ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়াগামী লংমার্চের পথে গোপালগঞ্জ পড়ায় সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে এ ধরনের আশঙ্কা নেই। তবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা দুরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতার চেষ্টা হলে তা রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে।

এক পর্যায়ে ভারতের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, “যাঁরা এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন, তাঁরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।