মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করায় অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা অর্ধশতাধিক বোমাসদৃশ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বাড়িগুলো থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই সহিংস ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সাগর বেপারী নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত মাতুব্বর কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাকে মাদক বিক্রিতে বাধা প্রদান করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর তার লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই সঙ্গে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রবাসী কালাম সরদার জানান, কয়েক দিন আগে তিনি দেশে ফিরেছেন। ঘটনার সময় তার বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘরে ঢুকে ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী শিল্পী বেগম জানান, তিনি আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল এবং ঋণের বোঝা নিয়ে সংসার চালান। তার মেয়ের জামাই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য বিদেশ থেকে দুই লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। হামলাকারীরা তার ঘরে থাকা ওই দুই লাখ টাকা ও মেয়ের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, “আমি গরিব মানুষ। অনেক টাকা ঋণ আছে। মেয়ের জামাই ঋণ পরিশোধের জন্য দুই লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। সেই টাকাসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাগরের নেতৃত্বে এই হামলায় বাবুল বেপারি, সুজন বেপারী, সোলেমান বেপারি, রিফাত রবিন, টুটুল মোল্লা, বিপুল মোল্লা, সাইদ চৌকিদার, সোহাগ, অহিদুল আকন, খবির বেপারী, সিয়াম বেপারী, হোসেন মোল্লা এবং সাখাওয়াতসহ বেশ কয়েকজন সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাগর বেপারী দাবি করেন, আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, বিয়ের দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেদের বাড়িঘর নিজেরাই ভাঙচুর করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”