মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না করাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত মাতুব্বরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এই সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ঘরবাড়ি তছনছ করার পাশাপাশি তারা স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাদাত মাতুব্বর; তিনি দাবি করেছেন যে, এই হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের বাবুল ব্যাপারীর ভাগনি সাহিদা আক্তারের সঙ্গে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কলাবাড়ি গ্রামের এক ইতালিপ্রবাসী যুবকের বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার বিকেলে। সাহিদা স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মোল্লার মেয়ে। জানা গেছে, পূর্বের কিছু বিরোধের কারণে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে শাহাদাত মাতুব্বরকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়টিই ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এর জেরেই পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনাটি ঘটে।

বাবুল ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহাদাত মাতুব্বরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে কয়েক দফায় হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের শব্দে বাড়ির লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে গেলে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি তার।

বাবুল ব্যাপারী আরও জানান, “তার ভাগনির বিয়েতে শাহাদাত মাতুব্বরকে দাওয়াত না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। তার নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালান। তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসতে না পারেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”

সাহিদার বাবা হোসেন মোল্লা জানান, তার বাড়ি ও বাবুল ব্যাপারীর বাড়ি একই জায়গায় অবস্থিত। মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ার কারণে শাহাদাত মাতুব্বরের লোকজন বাবুল ব্যাপারীর বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন বলে তার অভিযোগ। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বাবুল ব্যাপারীর ছেলের স্ত্রী মুসলিমা আক্তার বলেন, “আমার ননদের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বসতঘরে হামলা চালান। ঘর ভাঙচুর করে ভেতরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যান। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাহাদাত মাতুব্বর ও তার লোকজনের বিচার হোক।”

ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য সোলেমান ব্যাপারী অভিযোগ করেন, এলাকায় তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও হামলা চালানো হচ্ছে। এবার বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই পুরো অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত মাতুব্বর বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা তাদের বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাট করেছে, তা তিনি জানেন না।”

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।