এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক তরুণের। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি তাকে চুমু দেন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। তারা ওই তরুণ এবং তার বন্ধুকে ধরে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তরুণের বাবাকেও সেখানে ডেকে আনা হয়। এরপর যা ঘটে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। ওই তিনজনকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।
গত রোববারের এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ কলকাতার জনবহুল বেহালা এলাকায়। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভারতের বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমেও এই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।
গতকাল সোমবার স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কিশোরীর বাবা ও মামাও রয়েছেন।
কিশোরীর পরিবারের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটির সঙ্গে ওই তরুণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণটি লুকিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং সেই সময় তাকে চুমু দেন। এই দৃশ্য দেখে ফেলেন মেয়েটির এক আত্মীয়ের বন্ধু, যার মাধ্যমে খবরটি দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে যায়।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, খবর পাওয়ার পরপরই মেয়েটির বাবা ও মামা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তারা ওই তরুণ ও তার বন্ধুকে ধরে বেহালার সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্কের ক্ষুদিরামপল্লিতে অবস্থিত তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তরুণের বাবাকেও সেখানে আসার জন্য খবর পাঠানো হয়।
অভিযোগ উঠেছে যে, ওই তরুণ ও তার বন্ধুকে প্রথমে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তরুণের বাবা সেখানে পৌঁছালে তাঁকেও মারধর করা হয়। এরপর তিনজনকে উলঙ্গ করে বাড়ির সামনের ব্যস্ত সড়কে হাঁটানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথা না শুনলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। মূলত এই প্রাণভয়েই তিনজন ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা হাঁটতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কিশোরীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন যে তারা তরুণকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে আটকে রেখে মেয়েটির বাবা ও মামা তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণের বাবাকেও সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।