জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা গ্রামে তিন কৃষকের বেগুন ক্ষেতে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। এই অশুভ কর্মকাণ্ডের ফলে প্রায় ৪২ শতক জমির বেগুনগাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জানা গেছে, উপজেলার বড়তারা গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ, আমজাদ হোসেন এবং আবু হেনার স্ত্রী জুলেখা বেগমের বেগুনগাছে রাতের আঁধারে এই বিষ প্রয়োগ করা হয়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. মামুনুর রশিদের ১২ শতক, আমজাদ হোসেনের ২০ শতক এবং আবু হেনা ও জুলেখা দম্পতির ১০ শতক জমির বেগুনগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেগুন চাষে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল এবং যে শ্রম দেওয়া হয়েছিল, তার সবটুকু এখন ঝুঁকির মুখে। এই ব্যাপক ক্ষতির কথা ভেবে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুনুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ১২ শতক জমিতে বেগুনের আবাদ ছিল। রাতের আঁধারে কে বা কারা আমার জমির বেগুনগাছে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করেছে। ফসলের পেছনে বিনিয়োগ করা অর্থ ও পরিশ্রম বিফলে গেল।”

অন্যদিকে, আমজাদ হোসেন জানান, “আমি ২০ শতক জমিতে বেগুনের চাষ করেছি। গাছে সবেমাত্র বেগুন ধরা শুরু করেছে। জমিতে সেচ দিয়ে বাসায় ছিলাম। সকালে এসে দেখি, সূর্যের আলোয় বেগুনগাছ লেতিয়ে যাচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম, আমার বেগুনগাছে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে। এরপর জমিতে পানি স্প্রে করেছি, কিন্তু গাছগুলো মরে যাচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”

আবেগপ্রবণ হয়ে জুলেখা বেগম বলেন, “আমাদের ১০ শতক জমির বেগুনগাছও বিষ প্রয়োগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা আমাদের ফসলের ক্ষতি করেছে, আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।”

বিষয়টি নিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ দত্ত জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি কৃষি অফিসের মাধ্যমে তাদের সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “কৃষকদের ফসলে বিষ প্রয়োগের খবর আমরা পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”