মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাবলীল ভঙ্গিতে কথা বলতে সক্ষম একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) মডেল তৈরি করেছে ব্লক ইনকরপোরেশন। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক হলেন টুইটারের (বর্তমানে এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসি। ব্লকের দাবি অনুযায়ী, ‘ডেসা’ নামের এই বিশেষ এআই মডেলটি কেবল মানুষের মতো কথা বলতে পারেই না, বরং ব্যবহারকারীর কথা শুনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক উত্তর দিতেও সক্ষম। শুধু কথা বলাই নয়, কথোপকথনের মাঝখানে হাসা কিংবা বিস্ময় প্রকাশ করার মতো মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলোও এতে যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ব্যবহারকারী কথা বলতে গিয়ে মাঝপথে থেমে গেলেও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এই মডেলটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই নতুন এআই মডেলটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে জ্যাক ডরসি বলেন, “যোগাযোগের সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম হলো কণ্ঠস্বর। ডেসা একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিমুখী কথোপকথনভিত্তিক স্পিচ মডেল, যা মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।” ডেসার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আকার ছোট হওয়া, যার ফলে এটি সাধারণ ল্যাপটপেও অনায়াসেই চালানো সম্ভব।

ব্লক ইনকরপোরেশনের দাবি, ডেসা বাস্তব সময়ের চেয়েও দ্রুত গতিতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। এই দ্রুতগতির কারণে ব্যবহারকারীর কথা শোনা এবং তার বিপরীতে উত্তর দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান অত্যন্ত নগণ্য। ডেসাকে প্রশিক্ষিত করার পদ্ধতিটি বেশ ব্যতিক্রমী; একে সরাসরি মানুষের কথোপকথনের অডিও শোনানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই মডেলটি তৈরিতে কোনো লিখিত তথ্য বা আগে থেকে প্রশিক্ষিত অন্য কোনো এআই মডেলের সাহায্য নেওয়া হয়নি। এই মডেলটির বিশেষত্ব হলো এটি একই সময়ে কথা শুনতে এবং বলতে পারে; অর্থাৎ ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর গ্রহণ করে সরাসরি নিজস্ব কণ্ঠস্বরেই উত্তর প্রদান করে। তবে বর্তমানে ডেসা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক আগ্রহী ব্যক্তিরাই এটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

ডেসার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের শক্তিশালী এআই মডেলগুলো ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর শুনে তার ভেতরের অনুভূতিগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। এর ফলে কথোপকথনগুলো খুব একটা স্বচ্ছন্দে বা স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর আবেগ বা অনুভূতি বুঝতে না পারার কারণে ভুল প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। ডেসাই হলো বিশ্বের প্রথম এআই মডেল, যেটিকে শুধুমাত্র মানুষের কণ্ঠস্বর শোনানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর এই অনন্য প্রক্রিয়ার কারণেই মডেলটির সঙ্গে বাস্তব মানুষের মতো সরাসরি ও প্রাণবন্ত কথোপকথন করা সম্ভব হচ্ছে।

ডেসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এই মডেলটির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লক্ষ্য করা যায়, কখন কথা বলতে হবে, কী বলতে হবে এবং কথা বলার ধরন কেমন হবে—তা ডেসা নিজেই নির্ধারণ করছে। কথোপকথনের সময় কোনো মজার প্রসঙ্গ চলে এলে কথা বলার মাঝখানেই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হেসে উঠেছে ডেসা। এছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী বিস্ময় প্রকাশ করার মতো শব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি এটি সহানুভূতিও প্রকাশ করেছে।