জানাজা পড়া এবং লাশ দাফন করা প্রতিটি মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনকালে বাংলাদেশে মানুষের এই মৌলিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে তিনি আর সেই পুরনো দৃশ্য পুনরায় দেখতে চান না।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহীদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি, সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা ফ্যাসিস্ট তোফায়েলের জানাজা হয়েছে। আমার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও আমরা কথা বলেছি এবং বলব। কারণ শত্রুর সঙ্গে আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে।’
বর্তমানে যারা মানবাধিকারের কথা বলছেন, তাদের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি একটি তিক্ত সত্য মনে করিয়ে দেন। নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘কিন্তু ১৬ বছর অনেকেই মানবাধিকারের কথা বলেননি। মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারা দেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিল। মানবাধিকারের প্রশ্ন আসলে সেই সকল হত্যার বিচারও হতে হবে।’
অতীতের নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা লাশের ওপরে মুজিববাদীদের নৃত্য উল্লাস দেখেছি, কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখেছি এবং দেখেছি জানাজা পড়তে না দেওয়াটাকে কীভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল এবং এখনো দেখছি কীভাবে প্রতিনিয়ত শহীদ ওসমান হাদির কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে।’
ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক লেখেন, ‘এত কিছুর পরও আমরা ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করতে পারি না। ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা এবং মানবাধিকারের পক্ষে তিনি সবসময় থাকবেন।