কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জন্মের পরপরই দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে এক নবজাতককে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নবজাতকটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৩ অক্টোবর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২১ বছর বয়সি খাদিজা আক্তার এক ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সময় শিশুটিকে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি চুক্তিপত্রও পুলিশ জব্দ করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন আবির হোসেনের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), আবিরের চাচা নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম (৪২) ও রিপন (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও নারী-শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খাদিজা আক্তার এবং প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেন (১৯) উভয়েই চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বাড়ি পাশাপাশি। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবির একাধিকবার খাদিজার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান, যার ফলে খাদিজা গর্ভবতী হন।

পুলিশের অভিযোগ, বিষয়টি যখন খাদিজার পরিবার আবিরের পরিবারকে জানায়, তখন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রামের মাতব্বর হাজী মোস্তফা মোল্লার নামও সামনে এসেছে।

গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম থানার ‘প্রাইম’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খাদিজা ছেলেসন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে কয়েকজনের যোগসাজশে শিশুটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই লেনদেনের জন্য ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দেড় লাখ টাকার একটি চুক্তি করা হয়েছিল।

ঘটনাটি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নজরে এলে তার বিশেষ নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।