পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিরসনে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের দাবি, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। আজ সোমবার রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইজিপি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ক্রসফায়ার শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেননি।’
পুলিশ সদর দপ্তরের এই ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। এই দায়িত্বগুলো পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী এবং আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। বিবৃতিতে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন বিশেষ করে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির করা মন্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সেখানে জানানো হয়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে তিনি ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ অসাবধানতাবশত হয়েছে।