ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। আর দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আর কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এসব কথা বলেন।
আইজিপি জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৩৩ হাজারের অধিক পূজামণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পূজা উদযাপন কমিটি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতার কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্বগুলো সুষ্ঠুভাবে পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি পূজামণ্ডপে তিন লাখের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার যে সময়টুকু বাকি আছে, তা-ও শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক গুজব এবং কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, “প্রতিমা আনা-নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত কোনো প্রতিমার হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিমা ভাঙচুর হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের মাধ্যমে কিছু বিপথগামী ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশের বিকল্প নেই। আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পাঁচ থেকে সাত দিন পুলিশের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগে ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে জনগণের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পূজার বাকি সময়টুকু যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান আইজিপি।