সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। ইউরোপের ছোট্ট দেশ স্লোভেনিয়ার ডোমেইন নিবন্ধন দপ্তরে হঠাৎ করেই শুরু হলো এক অভূতপূর্ব কর্মব্যস্ততা। দেশটির সরকারি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের সার্ভার ‘রেজিস্টারডটএসআই’–তে যেন আছড়ে পড়ল এক অদৃশ্য সুনামি। দপ্তরের মুখপাত্র ক্লারা হারমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে একটি বিস্ময়কর তথ্য জানান।
ওই এক মাসেই স্লোভেনিয়ার কান্ট্রি কোড অর্থাৎ ডটএসআই–যুক্ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিবন্ধিত হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার। অথচ ঠিক তার আগের মাস আগস্টে এই নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম। গাণিতিক হিসাবে এই বৃদ্ধির হার ২ হাজার ১০০ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই এক দিনেই বিশ্বজুড়ে মানুষ ১১ হাজার ডটএসআই–যুক্ত ডোমেইন কিনে নেন।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—ইউরোপের একটি ছোট্ট দেশের ডোমেইন নিয়ে হঠাৎ বিশ্বজুড়ে এত মাতামাতির কারণ কী?
এই প্রশ্নের উত্তরটা লুকিয়ে আছে আটলান্টিকের ওপারে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণার মধ্যে। স্লোভেনিয়ার কান্ট্রি কোড হলো এসআই। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুল প্রচলিত প্রযুক্তি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর নাম পুরোপুরি বদলে ফেলে এর নতুন নাম দিয়েছেন সুপার ইন্টেলিজেন্স (এসআই)।
হোয়াইট হাউসের বৈঠক
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তিজগতের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে এই বৈঠককে একটি ‘অসাধারণ সমাবেশ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই বৈঠকে উপস্থিত অতিথিদের তিনি বর্ণনা করেছেন ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ গড়ে তোলা’ মানুষ হিসেবে। সেই আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন বিশ্বের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী সবচেয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, মেটা এবং গুগলের মতো টেক-জায়ান্টদের শীর্ষ নির্বাহীরা।
প্রযুক্তিজগতের মহারথীদের নিয়ে করা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৩০ মিনিট সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। বিবিসি তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদনে লিখেছে, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানান, শীর্ষ নির্বাহীরা ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ একটি দলিলে সই করেছেন। এই দলিল মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ও ভবিষ্যৎ–ঝুঁকির বিরুদ্ধে একধরনের ‘সুরক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে বলে দাবি করা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, ওই দলিল ট্রাম্প নিজেই অনলাইনে প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেই চুক্তিতে ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং। ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বভরে এই চুক্তিকে ‘একদিক থেকে সংবিধানের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এত ঢাকঢোল পিটিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত করা হলো, সেই চুক্তিতে আসলে কী আছে? বিবিসির বিবরণ অনুযায়ী, এই চুক্তির মূল কথা হলো—কোম্পানিগুলো নিজ নিজ উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করছে। তাদের তৈরি করা মডেল যেন ঠিক প্রত্যাশামতোই কাজ করে এবং বিপথে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ বসানো এবং কোনো ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সারিয়ে তোলার অঙ্গীকার রয়েছে ওই দলিলে।
কোম্পানিগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ‘স্বাধীন নিরীক্ষকদের’ সঙ্গে মিলে কাজ করবে এবং যাচাই করে দেখবে, এআই–ব্যবস্থা যেন তার নির্ধারিত কাজের গণ্ডির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় অনধিকার প্রবেশ না করে বা ঢুকে না পড়ে। প্রখ্যাত আইনি পরামর্শক সংস্থা ফ্রেশফিল্ডস এই চুক্তির একটি সারাংশ তৈরি করেছে, যেখানে এই অঙ্গীকারগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া এবং বোর্ড-স্তরের তদারকির কথাও যোগ করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তি সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তি। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো আইন বা নির্দেশিকা নয়; বরং এটি প্রযুক্তি–শিল্পের নিজেদেরই স্বাক্ষরিত এক অঙ্গীকারনামামাত্র।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, তিনি এআই সরঞ্জামের সার্বিক নিরাপত্তা দেখভালের জন্য একটি নতুন বোর্ড গঠন করবেন। তবে সেই বোর্ডের সদস্য কারা হবেন, তা নিয়ে তিনি এখনো কিছুই খোলাসা করেননি।
মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ হোয়াইট হাউসের বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক আলাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এই চুক্তি মার্কিন নাগরিক ও সাধারণ গ্রাহকদের মনে এই আস্থা তৈরি করবে, প্রযুক্তিটি যেমন কথা দিচ্ছে, ঠিক তেমনই কাজ করছে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এই চুক্তিকে ‘নিরাপদে জেতার’ একটি উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমোদেইয়ের কথাটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের এক মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি, যেখানে ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে এআইয়ের দৌড়ে যে জিতবে, সে-ই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে জিতবে।
স্লোভেনিয়ার ডোমেইন বাজারের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধানের একটি সাধারণ শব্দের ঘোষণাও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কত দূর পর্যন্ত ঢেউ তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মহলের সংশয়
হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষরিত এই ‘অ্যাকর্ড’ বা চুক্তি নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানেরা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করুন না কেন, সবাই কিন্তু এতে আশ্বস্ত হতে পারেননি। বিবিসির প্রতিবেদনে তিনজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে এবং অবাক করার বিষয় হলো—তাঁরা তিনজনই এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে অত্যন্ত সংশয়ী।
সিঙ্গাপুরের প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যানইয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই পরিচালনা ও নীতিবিষয়ক গবেষক হোসে মিগুয়েলিতো এনরিকেজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই চুক্তিতে একটি ‘উদীয়মান ঐকমত্য’ দেখা যায় ঠিকই, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এক টেবিলে বসার প্রমাণ দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, যদি ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বা এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন এই এআই নির্মাতারা কীভাবে আইনিভাবে জবাবদিহি করবে বা আদৌ করবে কি না, তা এ চুক্তির কোথাও বলা নেই।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক কিমবারলি ওয়েদারল্যাল এই চুক্তির সমালোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি এ চুক্তিকে ‘গভীরভাবে অপ্রভাবশালী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির ভাষা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হয়, কোম্পানিগুলো নিজেরাই নিজেদের সুবিধামতো ঠিক করে নিতে পারবে, ‘নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়’।
ওয়েদারল্যাল বলেন, যদি কোনো কোম্পানি এই চুক্তি ভাঙে, তবে তার পরিণতি কী হবে বা তাদের কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে কথারও কোনো উল্লেখ নেই এখানে। তাঁর চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, এই চুক্তি আসলে উপেক্ষা করাই ভালো। কারণ, এটি মূল সমস্যা থেকে অন্যদিকে নজর ঘোরানোর একটি ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।
অন্যদিকে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিনি প্যাটারসন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া এ ধরনের স্ব-নিয়ন্ত্রণের ফলে কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধার্থে শুধু ‘ন্যূনতম রক্ষাকবচ’ রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের বিভিন্ন মডেলে গোলযোগ দেখা দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাওয়ার যেসব নজির ইতিমধ্যে দেখা গেছে, তাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিকতার ঘাটতিই ফুটে ওঠে বলে তিনি জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের এই সংশয়ের পেছনে কিন্তু নিছক তত্ত্বগত ভয় নয়; বরং কিছু জ্বলন্ত বাস্তব ঘটনাও রয়েছে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ওই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ সোমবারই ওপেনএআই নিরাপত্তাজনিত গভীর উদ্বেগের কারণে তাদের সর্বশেষ প্রধান মডেল জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রার প্রকাশ চূড়ান্ত মুহূর্তে বাতিল করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা এর আগেও বিশ্বজুড়ে কড়া নজরদারি ও সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলীয় সরকারের একটি সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের মডেলের বিনা অনুমতিতে অনধিকার প্রবেশের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, শুধু মুখের কথায় বা একটি স্বেচ্ছাচুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই এআইয়ের মতো জটিল প্রযুক্তির ঝুঁকি রাতারাতি উধাও হয়ে যায় না।
এআই নীতির দিকবদল
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন এআই নীতিকে বুঝতে হলে একটু পেছনের দিকে তাকাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের এক দিকবদল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের এআই-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশটি বাতিল করে দেন।
ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইডেনের সেই আদেশে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা ছিল এবং যেকোনো নতুন মডেলের নিরাপত্তা-পরীক্ষার যাবতীয় তথ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হতো। সেটি ছিল আইনের কঠোর প্রয়োগ।
কিন্তু ট্রাম্পের আমলে করা এবারের এই নতুন অ্যাকর্ড বা চুক্তিটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। এখানে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে পর্যবেক্ষকদের মনে খুব স্বাভাবিক ও যৌক্তিক একটি প্রশ্ন ওঠে: এখানে আসল খবর কোনটি? মার্কিন প্রশাসনের কি এআই কোম্পানিগুলোর বাধ্যতামূলক জবাবদিহি থেকে সরে এসে কেবল স্বেচ্ছা-অঙ্গীকারের ওপর ভরসা করাটা আসল খবর, নাকি স্রেফ প্রযুক্তিটির নতুন একটি নাম দেওয়াটাই মূল এজেন্ডা?
শুধু মুখের কথায় বা একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই এআইয়ের মতো জটিল প্রযুক্তির ঝুঁকি রাতারাতি উধাও হয়ে যায় না।
নির্বাহী আদেশে শুধু শব্দের বদল
হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের একই দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে সই করেন। আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রেশফিল্ডসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই আদেশের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনাগুরেটিং দ্য এরা অব সুপার ইন্টেলিজেন্স (সুপার ইন্টেলিজেন্স যুগের উদ্বোধন)’। এই আদেশের ২ নম্বর ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে বলা হয়েছে, যেসব নথি, প্রতিবেদন ও ওয়েবসাইট সরাসরি আইনের অংশ নয় (নন-স্ট্যাটিউটরি), সেখানে এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর বদলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ লিখতে হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, এর ফলে এখন থেকে মার্কিন সরকারের সব চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট ও সরকারি প্রতিবেদনে এসআই শব্দটি বসবে এবং সংস্থাগুলো আর ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটির ব্যবহারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে না। ট্রাম্পের আদেশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তাতে প্রযুক্তিটি এখন আর ‘শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ থাকছে না; বরং এটি মানবসভ্যতার জন্য একটি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের নতুন যুগ’ তৈরি করছে।
তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি বিশাল পরিবর্তন মনে হলেও এর আইনি দিকটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নতুন শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে বর্তমান ফেডারেল আইনে এআইয়ের যে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া আছে, ঠিক সেই একই প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাকেই বোঝাবে।
এর সহজ অর্থ হলো—আইনের চোখে বা প্রযুক্তিগত সংজ্ঞায় আসলে কিছুই বদলায়নি। যা বদলেছে, তা হলো কেবল কাগজে লেখা একটি শব্দ। সিএনবিসি তাদের পর্যবেক্ষণে আরও একটি সূক্ষ্ম বিষয় তুলে ধরেছে—প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে সই করা অ্যাকর্ডের মূল নথিতে নাম বদলের কোনো ঘোষণা বা নির্দেশিকা নেই, নতুন এই ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কেবল দলিলের শিরোনামে।
মজার ব্যাপার হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আদেশের সই নিয়ে অনলাইন দুনিয়ায় বেশ হাসাহাসি ও ট্রলের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ওই আদেশের স্বাক্ষরের ঠিক নিচে খোদ দেশের নাম ‘ইউনাইটেড স্টেটস’ বানানটি ভুল লেখা হয়েছে। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা, যেখানে একটি শব্দ ভবিষ্যতে কীভাবে লিখতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, সেই আদেশের আনুষ্ঠানিক দলিলে খোদ দেশের নামের বানান ভুল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কটাক্ষ চলছে। অনেকেই বলছেন, কথাটা শুনতে ছোট মনে হলেও এর মধ্যে একধরনের চরম বিড়ম্বনা ও প্রশাসনিক গাফিলতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।
‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বনাম ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’
নাম পরিবর্তনের এই আগ্রহ ট্রাম্পের হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘কৃত্রিম’ বা আর্টিফিশিয়াল শব্দটিতে এই অভাবনীয় প্রযুক্তিকে কিছুটা ‘নকল’ বা সস্তা শোনায়। বিবিসির উদ্ধৃতিতে ট্রাম্পের সেই ভাষণের বক্তব্য ছিল, এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই নকল নয়; বরং এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর একটি উদ্ভাবন।
দ্য হিল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সে সময় আশা প্রকাশ করেছিলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেই নয়; বরং আগামীতে বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ নথিতেও এই শব্দ বদলে যাবে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওই একই ভাষণে ট্রাম্প এআই নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির বিষয়ে যেকোনো ধরনের ‘বৈশ্বিক পরিকল্পনা’ বা গ্লোবাল রেগুলেশন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কিন্তু প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কিন্তু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির দুনিয়ায় একেবারে নতুন কোনো উদ্ভাবিত শব্দ নয়। দ্য হিল ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের দুটি পৃথক প্রতিবেদনেই এই সত্যটি মনে করিয়ে দিয়েছে। তারা বলছে, এই শব্দটি অনেক আগে থেকেই এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ের এআইকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে সব দিক থেকে ছাড়িয়ে যায়।
জনপ্রিয় অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় একে একটি অনুমানভিত্তিক ধারণা (হাইপোথেটিক্যাল কনসেপ্ট) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে তাত্ত্বিক আলোচনায় বলা হয়, এমন ব্যবস্থা নিজের বুদ্ধি ও সক্ষমতা নিজেই বাড়িয়ে নিতে পারে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) বা তার চেয়ে উচ্চতর স্তর হিসেবে ধরা হয়।
আইনের চোখে বা প্রযুক্তিগত সংজ্ঞায় আসলে কিছুই বদলায়নি। যা বদলেছে, তা হলো কেবল কাগজে লেখা একটি শব্দ।
তাহলে এই নাম বদলে আসলে সমস্যাটা কোথায় তৈরি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের দিনে আমরা যে চ্যাটবট বা ছবি আঁকার সফটওয়্যার ব্যবহার করছি, তাকে এখনই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বললে মূলত একটি ভবিষ্যৎ কল্পনাকে বর্তমানের বাস্তবতা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়। একই শব্দ যদি বর্তমানের দুর্বল এআই এবং ভবিষ্যতের অতিমানবিক এআই—দুই অর্থেই চলতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ নীতিনির্ধারকেরাও চরমভাবে গুলিয়ে ফেলতে পারেন।
ট্রাম্পের হয়তো আপত্তি ছিল যে ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিকে ছোট করে দেখায়। কিন্তু তিনি এর যে বিকল্প শব্দ সামনে এনেছেন, তার দাবি আরও অনেক বড় ও ভয়ংকর: এই প্রযুক্তির কেবল বুদ্ধিমত্তাই নেই; বরং এটি মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। যাঁরা এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, তাঁদের মূল ভয় ঠিক ওই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরেই।
এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প চাইলেই কি এই শব্দ বিশ্বজুড়ে চালু হবে? এ নিয়ে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ আছে। বিবিসির প্রতিবেদনে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিনি প্যাটারসন বলেন, যেহেতু বড় বড় প্রযুক্তি-নেতারা শব্দটি গ্রহণ করেছেন, তাই যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বিশ্বজুড়ে এই ‘পরিভাষা ঠিক করে দেওয়ার অবস্থানেই’ আছে।
ইতিমধ্যে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ দুই মুখ মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্কসহ কয়েকজন এই শব্দ তাঁদের আলোচনায় ব্যবহার করতেও শুরু করেছেন। তবে অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের ওই জাতিসংঘ-ভাষণের পরই দ্বিমত পোষণ করে বলেছিলেন, শব্দটি রাতারাতি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে তাঁরা মনে করেন না। কারণ, বিজ্ঞানীদের কাছে এটি সাধারণত আরও উন্নত ও ভবিষ্যতের এক ব্যবস্থার নাম হিসেবেই চালু আছে।
বর্তমান বিতর্কটি কোনোভাবেই শব্দ বা নাম নিয়ে নয়; বরং বিতর্কটি হলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।
ডেটা সেন্টার, জনমত এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সমীকরণ
রাজনীতিবিদ ও প্রযুক্তি-নেতারা যা-ই ভাবুন না কেন, সাধারণ মানুষের মত কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃত ইউগভ জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-কে ভালো ও উপযুক্ত শব্দ বলে মনে করেন। অন্যদিকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ।
সিএনবিসির এক বিশ্লেষণে পুরো ঘটনাটিকে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এ অবস্থায় এআইয়ের অত্যন্ত দ্রুত অগ্রগতি এবং এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের যে উদ্বেগ, তা নির্বাচনী আলোচনাকে ক্রমে প্রভাবিত করছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেট গোয়েন্দা কমিটির ডেমোক্র্যাট ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘অগম্ভীর বা লঘু’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের একটি অত্যন্ত বড় ও দৃশ্যমান জায়গা হলো ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ডেটা সেন্টার। এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং চালাতে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার প্রয়োজন হয়, যা প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি খরচ করে।
বিবিসি জানিয়েছে, ম্যারিস্ট পোল, এনপিআর ও পিবিএস নিউজের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার নিজেদের এলাকার আশপাশে নতুন করে ডেটা সেন্টার বসানোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আপত্তির মূল কারণ হলো—এসব ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ খরচ এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে এর আগেই কড়া ভাষায় বলেছিলেন, যেসব মানুষ ভবিষ্যতে ‘পিছিয়ে ও গরিব’ থাকতে চান, কেবল তাঁরাই নিজ এলাকায় ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করবেন। হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধনী ও ক্ষমতাবান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এসব স্থানীয় সম্প্রদায়কে বিপুল পরিমাণ অর্থসহায়তা দেবে।
আশ্চর্যজনকভাবে ডেটা সেন্টার বিতর্কেও এই নাম বদলের প্রসঙ্গটি টেনে আনা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই সুবিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর নাম হওয়া উচিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফ্যাক্টরি’।
হুয়াংয়ের যুক্তি হলো, এই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে শিল্পায়িত করছে এবং অর্থনীতিজুড়ে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করছে। অর্থাৎ, সহজ কথায় বলতে গেলে—যে বিশাল বৈদ্যুতিক স্থাপনাকে স্থানীয় মানুষ পরিবেশবিনাশী বা বিদ্যুৎ-খেকো দানব বলে মনে করে ভয় পাচ্ছে, তাকে এখন কারখানা বা ফ্যাক্টরি নামে ডাকার এক মনস্তাত্ত্বিক চেষ্টা চলছে।
অ্যাক্সিওস এই পুরো প্রচেষ্টাকে এআইয়ের বর্তমান ‘টক্সিক ব্র্যান্ডিং (ক্ষতিকর বিপণন ব্যবস্থাপনা)’ ঝেড়ে ফেলার এক পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছে। এটি অবশ্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ। তবে হোয়াইট হাউসের সরকারি ভাষ্য হলো—এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ মূলত প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি ও অসীম সম্ভাবনার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
ক্যালিফোর্নিয়ার পাল্টা অবস্থান
ফেডারেল স্তরে ট্রাম্পের এই নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম গত বুধবার একটি পাল্টা নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। ওই আদেশে রাজ্যের অধীন সব সরকারি সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’ শব্দই চালু রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকার ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করলেও ক্যালিফোর্নিয়া তা মানবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলিকন ভ্যালি এই ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যেই অবস্থিত।
গভর্নর নিউজমের আদেশের ভাষা ছিল বেশ ঝাঁজালো ও আক্রমণাত্মক। তাঁর আদেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, কোনো কিছুর নাম বদলের চেষ্টা করে ‘স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত উদীয়মান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-ঝুঁকি’ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের নিষ্ক্রিয়তা ও কাপুরুষতা আড়াল করা যায় না। তাঁর সোজা যুক্তি হলো—বর্তমান বিতর্কটি কোনোভাবেই শব্দ বা নাম নিয়ে নয়; বরং বিতর্কটি হলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।
দ্য উইক-এর এক গভীর বিশ্লেষণে এ ঘটনাকে ‘টেকনো-ন্যাশনালিজম’ বা প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদ এবং বিভক্ত শব্দভান্ডারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়েছে। তারা বলছে, যদি এক দেশের ফেডারেল সংস্থা একটি প্রযুক্তিকে এসআই বলে, তার অঙ্গরাজ্য যদি এআই বলে, আবার ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ও এশিয়ার গবেষকেরা যদি একই প্রযুক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকতে শুরু করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বৈশ্বিক সমঝোতায় অভিন্ন ভাষার এক বিরাট অভাব তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটা মোটেও কোনো সুখবর নয়।
[তথ্যসূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি, সিএনবিসি, অ্যাক্সিওস, দ্য হিল, ফ্রেশফিল্ডস, নিউজনেশন, দ্য উইক]