চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ধর্মান্তরিত যুবকের মরদেহ সৎকার ও দাফন নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের মরদেহটি হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করতে চেয়েছিলেন তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। তবে স্বামীর ইসলাম গ্রহণ এবং বিয়ের কাবিননামার প্রমাণ দেখিয়ে মুসলিম রীতিতে দাফনের দাবি জানান স্ত্রী।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায়। নিহত যুবকের নাম চঞ্চল কুমার (২৩)। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছিল মো. আব্দুল্লাহ। তিনি কার্পাসডাঙ্গা আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা শ্রী মিলন কুমারের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চঞ্চল কুমার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি পাশের গ্রামের এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। সেই থেকে স্ত্রীর সাথেই বসবাস করছিলেন আব্দুল্লাহ। গত ২৪ অক্টোবর ভোরে ঢাকা যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুর মোড়ে একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর যখন তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কার্পাসডাঙ্গায় আনা হয়, তখন দাফন ও সৎকারের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। একপর্যায়ে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতের বাবা শ্রী মিলন কুমার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দাবি করেন, তাদের ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করতে হবে। অন্যদিকে, স্ত্রী হামিদা খাতুন জানান, তার স্বামী প্রায় দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছেন। তাই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী স্বামীর জানাজা শেষে মুসলিম রীতিতে দাফন করতে চান তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহটি উদ্ধার করে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী হামিদা খাতুন বিয়ের কাবিননামাসহ প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পর পুলিশ মরদেহটি তার কাছে হস্তান্তর করে। মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর কার্পাসডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আব্দুল্লাহকে দাফন করা হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “নিহতের স্ত্রী বিয়ের কাবিননামাসহ বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর মরদেহটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর ভোরে মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার, হেলপার ও এক যাত্রীসহ মোট তিনজন নিহত হন। নিহত তিনজনেরই বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়।