গাজীপুরের সদর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা পাঁচজনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার প্রধান আসামি হিসেবে করা হয়েছে জয়দেবপুর থানার অন্তর্গত দুটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (২৯)। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরিফুল ইসলামের ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), তাঁদের বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের আরও এক ব্যক্তি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত আসামিদের সকলের স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রাম। আরিফুল ইসলামের পরিচালিত একটি মহিলা মাদ্রাসায় ওই ছাত্রী অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করতেন। যখন ছাত্রীটি তাঁর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হননি, তখন তাকে অপহরণ করার হুমকি দেওয়া হয়।

ছাত্রীটি বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানালে, পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে এই ধরনের অশালীন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তবে এই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ছাত্রীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।

ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে ছাত্রীটি প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর বাবা জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম অন্যদের সহযোগিতায় তাঁর মেয়েকে অপহরণ করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও মেয়েকে উদ্ধার করতে না পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম অন্যদের সহযোগিতায় তাঁর মেয়েকে অপহরণ করেন।”

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।