ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানির ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

অভিযোগগুলো হলো; মিথ্যা সমন ব্যবহার, চার মামলার নথি আটকে রাখা, রায় প্রচারে অসংগতি, গোপনে কথোপকথন রেকর্ড এবং সেই সূত্রে অভিযোগ প্রচার। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে আদালতের মূল নথি, আদেশ, দিনলিপি, দৈনিক কার্যতালিকা, প্রসেস ইস্যু রেজিস্টার ও নথি গ্রহণের স্বীকৃতিপত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিচারক, আদালতকর্মী ও আইনজীবীদের সাক্ষ্যও বিশ্লেষণে এসেছে।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পাঁচ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনের উপসংহারে উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি ঘটনায় সম্ভাব্য ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে জেলা জজের বিরুদ্ধে রায় ছেঁড়ার অভিযোগের সমর্থনে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

মিথ্যা সমন

প্রতিবেদনের প্রথম অভিযোগটি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআর মামলা নম্বর ১২৪/২০২১-কে ঘিরে। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কথা বলে আরিফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থলের বাইরে থাকার অনুমতি চেয়েছিলেন। তার আবেদনের ভিত্তি ছিল একটি আদালতি সমন। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

অনুসন্ধানে ওই সমনের সঙ্গে মামলার মূল নথির তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল না। ওই দিন চার্জ শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেদিন চার্জ শুনানি হয়নি।

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আরিফুল ইসলামের নামে সমন জারির কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। প্রসেস ইস্যু রেজিস্টারেও সমনটির স্মারক নম্বর ও তারিখের সমর্থনে তথ্য মেলেনি। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে ওই নম্বরটি আগের এক তারিখে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।

সমনটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে আদালতের দুই কর্মচারী তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তৎকালীন বেঞ্চ সহকারী মহির উদ্দিন স্বীকার করেন, সমনে সাক্ষী হিসেবে আরিফুল ইসলামের নাম, ঠিকানা ও মামলার নম্বর তিনি লিখেছিলেন। তার দাবি, তৎকালীন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীনের নির্দেশে তিনি সমনটি তৈরি করেছিলেন।

অন্যদিকে তৎকালীন অফিস সহায়ক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সমনের স্মারক নম্বর ও তারিখ তিনি লিখেছিলেন। তবে সমনটি না দেখেই ওই তথ্য লিখেছিলেন বলে তিনি জানান।

সমনে বিচারক হিসেবে যে স্বাক্ষর ছিল, সেটি নিজের বলে স্বীকার করেন মো. মাহমুদুল মোহসীন। তবে তিনি বলেন, আরিফুল ইসলামের নামে সমন জারির নির্দেশ তিনি দেননি। তার অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

শরীয়তপুরের জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হায়াতুল হক জানান, সমনটি যাচাই করে টাঙ্গাইলের আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখানে আরিফুল ইসলাম ওই মামলার সাক্ষী নন বলে জানা যায়। এরপর তাকে কর্মস্থলে ফিরে আসতে বলা হয়। আরিফুল ইসলাম ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে ফিরে যোগদানের আবেদন করেন।

নথি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন, সমনটি ভুলক্রমে তৈরি হয়নি। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা মিথ্যা সমন ব্যবহার করে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। সমন তৈরির সঙ্গে জড়িত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি আটকে রাখা

দ্বিতীয় অভিযোগটি চারটি দেওয়ানি মামলার নথি নিয়ে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিফুল ইসলাম রায় লেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে মামলাগুলোর নথি নিজের জিম্মায় নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত স্বীকৃতিপত্র পাওয়া যায়।

বেঞ্চ সহকারী মো. হাবিবুর রহমান জানান, নথিগুলো নেওয়ার সময় আরিফুল ইসলাম লিখিতভাবে সেগুলো নিজের জিম্মায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। অনুসন্ধানকালে আরিফুল ইসলামও স্বীকৃতিপত্রের লেখা ও স্বাক্ষর নিজের বলে মেনে নেন।

আদালতের অন্যান্য কর্মচারীও নথিগুলো ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। সেরেস্তাদার কাজী হাবিবুল্লাহ এবং হিসাবরক্ষক কাম সেরেস্তা সহকারী সনিয়া আক্তার জানান, নথিগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন জমা পড়লে নথি না থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

অফিস সহায়ক জিয়াউর রহমান জুয়েল বলেন, তার সামনে আরিফুল ইসলাম নথিগুলো নিজের জিম্মায় থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছিলেন। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বিচারক বেগম নাঈমা হক অনুসন্ধানকারী দলকে জানান, নথিগুলো ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা জজকে জানানো হয়েছিল।

মলাগুলোর আইনজীবীরাও সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তারা রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাননি। নথি না পাওয়ার কারণে রায়ের কপি সংগ্রহের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আরিফুল ইসলাম তদন্তকারী দলকে বলেন, তিনি নথিগুলো রায়সহ ফেরত দিয়েছিলেন। এর পক্ষে তিনি রায়ের কপি দাখিল করেন। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মনে করেন, রায়ের কপি দাখিল করলেই মূল নথি ফেরত দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয় না। স্বাক্ষরযুক্ত স্বীকৃতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের বিপরীতে নথি ফেরতের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির তারিখের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বলেছেন, আরিফুল ইসলামের নিজের স্বীকৃতি অনুযায়ী নথিগুলো তার জিম্মায় ছিল। ফলে আগের দুটি মামলার রায় লেখা ও নথি ফেরতের সময়কাল নিয়ে অসংগতি রয়েছে।

রায় নিয়ে অসংগতি

প্রতিবেদনের তৃতীয় অভিযোগটি দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৬৭/২০২১ নিয়ে। আরিফুল ইসলামের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি মামলাটির রায় প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করেছিলেন এবং মামলাটি খারিজ করেছিলেন। পরে জেলা জজ মো. সোলায়মান নথি তলব করে রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলেন। কিন্তু অনুসন্ধানে মামলার আদেশ, দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকার মধ্যে গুরুতর অসংগতি পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের আদেশে মামলাটি ২৪ সেপ্টেম্বর রায় প্রচারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষ মামলার আরজি সংশোধন, একজন সাক্ষীকে পুনরায় তলব এবং মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করে। আদালত ৩৪ নম্বর আদেশে আবেদনগুলো মঞ্জুর করেন। মামলাটি রায়ের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। ফলে ওইদিন মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারিত ছিল না। তবু দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকায় দুই পক্ষের উপস্থিতিতে খারিজ হয়েছে বলে লেখা ছিল। মূল নথিতে ২৪ সেপ্টেম্বরের কোনো রায়ের আদেশ পাওয়া যায়নি।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা জজ আদালতের বদলি মিস মামলা ৮৯/২০২৪-এর আদেশে দেওয়ানি ১৬৭/২০২১ মামলাটি নড়িয়া সিভিল জজ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে মামলাটি ২৯৬/২০২৪ নম্বর পায়। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথি গ্রহণ ও স্থানান্তরের রেজিস্টার অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে জেলা জজ আদালতে নথি গ্রহণ করা হয়। পরে নড়িয়া আদালতে পাঠানো নথিতে কোনো রায় পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট বিচারক সাক্ষ্য দেন।

বাদী ও বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের কেউ অনুসন্ধানে বলেননি যে, ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি সেদিন রায় ঘোষণা করে নথি বেঞ্চ সহকারীর কাছে দিয়েছিলেন। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বলেন, তার এই বক্তব্যের পক্ষে দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকার কপি এবং দাখিল করা কথিত রায়ের কপি ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সমর্থন পাওয়া যায়নি।

জেলা জজ মো. সোলায়মানের বিরুদ্ধে রায় ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি। নথি স্থানান্তরের রেকর্ড, মূল নথিতে রায় না থাকা এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আরিফুল ইসলামের ওই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রায় না দিয়েও দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকায় মামলাটি খারিজের তথ্য লেখা এবং পরে রায় দাখিলের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ ধরনের কাজ দণ্ডবিধির ৪৬৬ ও ৪৭১ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কথোপকথন রেকর্ড

চতুর্থ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবরের একটি কথোপকথন নিয়ে। সেদিন বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন বা এসিআর নিয়ে কথা বলতে জেলা জজ মো. সোলায়মানের খাস কামরায় গিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম। কথোপকথনের এক পর্যায়ে দেওয়ানি ১৬৭/২০২১ মামলার রায় ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তোলেন তিনি।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জেলা জজের বক্তব্যের পাশাপাশি আরিফুল ইসলামের নিজের বক্তব্যের অসংগতিও তুলে ধরা হয়েছে। আরিফুল ইসলাম অনুসন্ধানে দাবি করেন, কথোপকথনটি কে রেকর্ড করেছিলেন তা তিনি জানেন না। ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কেউ একটি পেনড্রাইভে রেকর্ডিংটি পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো একটি অভিযোগে আরিফুল ইসলাম নিজেই উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি নিজের মোবাইল ফোনে কথোপকথনটি রেকর্ড করেছিলেন এবং পেনড্রাইভে সেটি সংযুক্ত করেছিলেন।

এই বক্তব্যের সঙ্গে অনুসন্ধানে দেওয়া তার ব্যাখ্যার মিল ছিল না। সাক্ষীদের বক্তব্যেও ওই দিনের কথোপকথনের সময় আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোন টেবিলে থাকার তথ্য উঠে আসে।

এসব তথ্য বিবেচনায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন, জেলা জজের অজান্তে কথোপকথন রেকর্ড করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। রেকর্ডিং কীভাবে তার কাছে এসেছে, সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া বক্তব্যও অসংগতিপূর্ণ।

রেকর্ডিং ও সংবাদ প্রচার

পঞ্চম অভিযোগটি ওই রেকর্ডিং ও পরবর্তী সংবাদ প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর একটি দৈনিকে ‘মাথা গরম জেলা জজ/রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিন ইউটিউব ও ফেসবুক চ্যানেলেও এ বিষয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আরেকটি দৈনিকে ৩০ অক্টোবর, ১ নভেম্বর ও ৫ নভেম্বর জেলা জজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরিফুল ইসলাম অনুসন্ধানে বলেন, এসব সংবাদ সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং সংবাদমাধ্যমগুলো তার বক্তব্য নেয়নি। তবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবরের কথোপকথনের পর রেকর্ডিংয়ের সূত্রে জেলা জজের বিরুদ্ধে রায় ছিঁড়ে ফেলা, নথি তলব ও অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মনে করেন, জেলা জজের বিরুদ্ধে রায় ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মূল নথি ও মামলার কার্যক্রম বিশ্লেষণে ওই অভিযোগ সমর্থিত হয়নি। রেকর্ডিং ব্যবহার করে জেলা জজের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ প্রচারের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনের উপসংহারে এসব কাজকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর আওতায় অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়। কথিত জাল রায় তৈরি ও ব্যবহারের বিষয়টি দণ্ডবিধির ৪৬৬ ও ৪৭১ ধারায় অপরাধ।