সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় অভিনেতা শরীফুল রাজ তাঁর ক্যারিয়ার, সিনেমা হলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। আলাপচারিতার শুরুতে রাজ জানান, তিনি বর্তমানে ভ্রমণ এবং ফটোশুটের কাজে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ফোন সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “ঘুরতে আর ফটোশুটের কাজে ঢাকার বাইরে এখন। যখন ফোন করেন, তখন আমি দেবতাখুমে বোট চালাচ্ছিলাম। এমন একটা লোকেশনে ছিলাম, কথা বলার মতো অবস্থাই ছিল না, নেটওয়ার্কও ছিল না।”
দশ বছর পর চরকি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা ‘আইসক্রিম’। এই সিনেমার মুক্তি এবং সেই রাতের আড্ডা প্রসঙ্গে রাজ স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সেদিন পরিচালক রেদওয়ান রনির জন্মদিন ছিল, আর সেই উপলক্ষেই সিনেমার কথা বলে আড্ডা জমেছিল। রাজ বলেন, “১০ বছর আগে কত কী করেছি! তখন তো ভাবিই নাই, আজকের মতো সিনেমাই করে যাব। সেই সময়ে শুটিংয়ে আমরা অনেক মজা করতাম। অনেক দৃশ্যের শুটিং নিয়ে মজার ঘটনা ঘটত। আড্ডায় এ টি এম শামসুজ্জামান ভাই, দিতি আপাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমাদের সিনেমার ৪ জন শিল্পী মারা গিয়েছেন। তাঁদের মিস করলাম।”
প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতা এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সম্পর্কে রাজের মতে, তাঁর অভিনয়ের ভিত্তি তৈরি হয়েছে সেই প্রথম কাজ থেকেই। তিনি বলেন, “বলা যায়, আমার সবটাই প্রথম সিনেমা থেকে শেখা। রনি ভাই হাত ধরে ধরে শিখিয়েছেন। শুটিংয়ে গিয়েই অনেক কিছু জানলাম, বুঝলাম, শিখলাম। সিনেমার শুটিং, অভিনয়—সবকিছুর মধ্যে ভালো লাগা শুরু করল। তখন মনে হয়েছিল, আরও অনেক সিনেমা করা দরকার। সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।”
পেশা হিসেবে অভিনয় বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ জানান, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও এখন তিনি এই পেশায় অত্যন্ত সুখী। তাঁর ভাষায়, “অভিনয় করার তো ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কী হবে, না-হবে—এটা বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। যেকোনো কিছুকে পেশা হিসেবে নেওয়া কঠিন। এখন অভিনয় এনজয় করছি। সেটাই ছিল আমার জীবনের সুন্দর সিদ্ধান্ত। এমনিতেই কম সিনেমা করি। সেই তুলনায় অনেক ভালো ভালো চিত্রনাট্য পাচ্ছি। এখন অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে। অনেকের কাছে আমার কাজের সংখ্যা কম মনে হতে পারে; তবে সব মিলিয়ে সিনেমা নিয়ে আমি ভালো আছি।”
সিনেপ্লেক্সের আধিপত্য এবং সিঙ্গেল স্ক্রিন হলের করুণ দশা নিয়ে কথা বলে রাজ মনে করেন, পরিবেশ উন্নত হলে দর্শক অবশ্যই হলে ফিরবে। তিনি বলেন, “এ সময়ে সিঙ্গেল স্ক্রিনের সেই উপযোগিতা আর নেই। এখন সময় বদলেছে। এখন পরিবেশের দিক থেকে একটা হলকে গোছানো হতে হবে। ধুলাবালু, জরাজীর্ণ, এসি নেই—এমন পরিবেশে দর্শক সিনেমা দেখবে না, স্বাভাবিক। হলের পরিবেশ ঠিক হলে দর্শক অবশ্যই সিনেমা হলে যাবে। তবে হল ঠিক হলেই হবে না, সেই সঙ্গে ভালো সিনেমা দিতে হবে।”
সিনেমা হল ও দর্শককে উজ্জীবিত রাখতে বছরে কতটি সিনেমা প্রয়োজন, সে বিষয়ে রাজের অভিমত হলো অন্তত ১২টি ভালো সিনেমা দরকার। তিনি বলেন, “মিনিমাম ১২টা সিনেমা দরকার। এটা প্ল্যানিং করে মুক্তি দিতে হবে। এখন ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তির চর্চাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা ভালো উদাহরণ হতে পারে না। আমি নিজেও চাই ঈদ ছাড়া আমার সিনেমা মুক্তি পাক। বরং ঈদে একসঙ্গে অনেক সিনেমা মুক্তি পেলে আরও প্রেশার তৈরি হয়।”
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা নিয়ে হংকং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে রাজ বলেন, “বিদেশে উৎসবে তো খুব বেশি যাওয়ার সুযোগ হয় না। সেখানে আমাদের সিনেমাটিকে বিভিন্ন দেশের দর্শক কানেক্ট করতে পারল, গল্প, প্রেক্ষাপট বিভিন্ন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করল। আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে তাদের জানার আগ্রহ বুঝতে পারলাম। একটি সিনেমা কত গভীর থেকে তারা দেখে, সেটা নতুন অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া হংকং তো আমার পছন্দের পরিচালক ওং কার-ওয়াইয়ের দেশ। কিছু শপিং করলাম, ঘুরলাম, ভালোই সময় কাটল।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের অনুরোধে শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে রাজ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “শাকিব ভাই তো গুণী শিল্পী। আমাদের নিয়ে প্রযোজক পরিচালক ভাবলে তো আমার আপত্তি নেই। আমার কাজ অভিনয় করা। আমার জায়গা থেকে শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয়ে রাজি আছি। আমার সমস্যা নেই। সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই। অনেকেই আমাকে এটাও বলেন, নাজিফা তুষির সঙ্গে প্রথম সিনেমা, কিন্তু ১০ বছরে আর কোনো সিনেমা করলাম না কেন? আমার তো ইচ্ছা আছে। আমরা বন্ধু। আমাদের নিয়ে প্রযোজক, পরিচালকদের ভাবতে হবে।”
সাম্প্রতিক সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রাজ জানান, ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি সিনেমা দেখা সম্ভব হয়নি, তবে ‘মুসাফির ক্যাফে’ তাঁর ভালো লেগেছে। এছাড়া আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর ‘ডিগার’ সিনেমাটি দেখার তালিকায় রেখেছেন তিনি। ঈদের সিনেমার শুটিং কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও রাজ বলেন, “সিনেমাটি সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে সব ঠিক থাকলে শিগগির শুটিং শুরু করব।”