প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রাইটনের অপরাজেয় যাত্রা থামিয়ে দিল লিভারপুল। টানা চার ম্যাচে জয়লাভ করে আত্মবিশ্বাসের সাথে অ্যানফিল্ডের মাঠে এসেছিল সফরকারী দল ব্রাইটন। তবে ম্যাচের শুরুতেই দুই গোল হজম করে তারা পিছিয়ে পড়ে। পাসকাল গ্রসের একটি আত্মঘাতী গোল এবং আলেক্সান্দার ইসাকের নিখুঁত লক্ষ্যভেদে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। এই গোলের মাধ্যমে টানা তৃতীয় লিগ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন সুইডিশ স্ট্রাইকার ইসাক। সেই সঙ্গে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে জয় পেল অলরেডরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই দুই গোল আদায় করে নেয় আন্দোনি ইরাওলার নেতৃত্বাধীন দল। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে পাওয়া এই দুই গোলের মাধ্যমে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠিতে নিয়ে নেয় লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটন বেশ কিছু আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করলেও আর ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায়নি।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাইটন। ১৪তম মিনিটে পাসকাল গ্রসের দেওয়া পাসে গোলমুখে বল পান ইয়াসিন আইয়ারি। তবে ফাঁকায় পেয়েও তার নেওয়া শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এই সুযোগটি নষ্ট করার খেসারত দিতে হয়েছে সফরকারীদের।
এর তিন মিনিট পরেই লিভারপুল লিড নেয়। রোনাল্ড আরাউহোর করা ক্রসটি পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় ব্রাইটনের রক্ষণভাগ। ফিরতি বল পেয়েই নিচু শট নেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। বলটি গ্রসের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ফলে আত্মঘাতী গোল হিসেবে তা ব্রাইটন মিডফিল্ডারের নামের পাশে যুক্ত হয়।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পুনরায় বিপদে পড়ে ব্রাইটন। ২১তম মিনিটে অলিভিয়ের বসকাগলির বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা রুখে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বক্সে একটি নিখুঁত পাস প্রদান করেন এই ফরাসি উইঙ্গার। সেই পাসে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান ইসাক।
এ নিয়ে টানা তিন প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন ইসাক। চলতি মৌসুমে লিগে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ছয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথমবার টানা তিন লিগ ম্যাচে গোল করার দেখা পেলেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও লড়াই চালিয়ে যায় ব্রাইটন। ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয় তাদের। নিজেদের অর্ধে বল বিল্ডআপ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শট নেন আইয়ারি। তবে তার সেই শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল। তবে আরাউহোর একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচান ব্রাইটন গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন।
বিরতির পর আক্রমণভাগের ওপর আরও বেশি জোর দেয় ব্রাইটন। বলের দখলের দিক থেকেও এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। পুরো ম্যাচে ৬৪ শতাংশের বেশি বল পজিশন ধরে রেখে তারা মোট ১৭টি শট নেয়। তবে লক্ষ্যভেদে সফল হয় মাত্র একটি শট। লিভারপুলের রক্ষণভাগের দৃঢ় প্রাচীরের সামনে গোলের দেখা পায়নি ফাবিয়ান হুরৎসেলারের দল। ভার্জিল ফন ডাইক, জেরেমি জাকেত ও আরাউহো মিলে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাক্সিম দে কুইপারের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ রুখে দেন বদলি হিসেবে নামা ট্রে নিওনি। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে একাধিক সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি লিভারপুল। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের সেই দুই গোলই স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করে।
এই পরাজয়ের ফলে ব্রাইটনের টানা চার লিগ ম্যাচে জয়ের ধারাটি শেষ হলো। আগের চার ম্যাচে তারা ১৫টি গোল করার বিপরীতে একটিও গোল হজম করেনি। তবে অ্যানফিল্ডের মাঠে এসে সেই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে সব ধরনের প্রতিযোগিতার কথা বিবেচনা করলে টানা চতুর্থ জয় পেল লিভারপুল। একই সাথে কোচ ইরাওলার অধীনে অ্যানফিল্ডে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয়ও আসলো তাদের। আট ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিভারপুল পঞ্চম স্থান থেকে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানেই রয়েছে ব্রাইটন।
আগামী ১ নভেম্বর নিজেদের মাঠে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। আট ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডনের এই ক্লাবটি। শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্রাইটনকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিল ইরাওলার শিষ্যরা।