ম্যানচেস্টার সিটির কাছে গত লিগ ম্যাচে তিন গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল লিভারপুল। ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে খেলতে নেমে প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের একজন ফুটবলারের লাল কার্ড পাওয়ার পর ম্যাচের গতিপথ বদলে যায় এবং দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে অলরেডরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রেন্টফোর্ডের জিটেক কমিউনিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে লিভারপুল। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল স্বাগতিক ব্রেন্টফোর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে হিমশিম খেতে দেখা যায় লিভারপুলকে। উল্টো আক্রমণের সুযোগ নিয়ে ৪৪ মিনিটে লিড নেয় স্বাগতিক দল। ইগর থিয়াগোর দেওয়া নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান কিন লুইস-পটার।
তবে স্বাগতিকদের এই এগিয়ে থাকার আনন্দ স্থায়ী হয়নি খুব বেশি সময়। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে লিভারপুলের জেরেমি জ্যাকেকের মাথায় আঘাত করেন ব্রেন্টফোর্ডের ইয়েহর ইয়ারমোলিউক। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টি একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে লড়তে হয় ব্রেন্টফোর্ডকে।
সংখ্যাগত এই বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে আন্দোনি ইরাওলার দল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে ৬২ মিনিটে সমতায় ফেরে লিভারপুল। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে বল নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যান ভিক্টর মুনিয়োস। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন তিনি।
সমতায় ফেরার পর লিভারপুলের আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। ৭০ মিনিটে তারা পায় দ্বিতীয় গোল। আলেক্সিস মাক আলিস্তারের ক্রস হেড করে নামিয়ে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা, আর সেখান থেকে বল জালে পাঠিয়ে সফরকারীদের লিড এনে দেন আলেক্সান্দার ইসাক। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই এই গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করলেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার।
তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে চোটের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে লিভারপুল ম্যানেজমেন্টকে। প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দমিনিক সোবোসলাই, যার পরিবর্তে নামানো হয় ট্রে নিয়োনিকে। বিরতির পর রোনাল্ড আরাউহোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জেরেমি ফ্রিম্পং, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ছয় মিনিট পরেই চোট পেয়ে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার জায়গায় নামেন রিও এনগুমোহা।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল ব্রেন্টফোর্ড। অন্যদিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুলও, তবে বারকোলার একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় তৃতীয় গোলটি করা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে আরও একটি ধাক্কা খায় ব্রেন্টফোর্ড। লিভারপুলের এনগুমোহাকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ভিতালি ইয়ানেল্ট। এর ফলে শেষ সময়ে স্বাগতিকরা নয়জনের দলে পরিণত হয়।
এরপর আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ পায়নি ব্রেন্টফোর্ড। এক কঠিন লড়াইয়ের পর পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর এই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল ইরাওলার শিষ্যরা।