মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ইরান। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্রগুলো এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের লেখা একটি লিখিত নথি বা মেমোর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে জে ক্লেটনের এই সতর্কবার্তা সামনে এল, যখন সৌদি আরবে নিজেদের মিশনে কর্মরতদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে তাদের হামলা বৃদ্ধি করায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে লড়াইয়ে নেমেছে হুতিরা। প্রায় আট মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যার অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যকার লড়াই। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরান আরও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত চলে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর তারিখ উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে লেখা একটি বার্তায় জে ক্লেটন উল্লেখ করেছেন, ‘বিশেষ করে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আমরা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি যে মার্কিন কর্মকর্তাদের হামলার নিশানা করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান।’
ক্লেটন তাঁর ওই বার্তায় আরও লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু দেশে মার্কিনদের বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। জানা গেছে, ওই মেমোর একটি অনুলিপি সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও পাঠানো হয়েছে। তবে মেমোটি গোপনীয় শ্রেণির ছিল না।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রাণঘাতী হামলার ‘ষড়যন্ত্র’ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে অ-জরুরি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কবার্তা হালনাগাদ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত। মূলত ইরানের মিত্র হুতিদের পক্ষ থেকে হামলার হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সতর্কবার্তা আপডেট করা হয়েছে।