ভোর পাঁচটা। বগুড়ার আলুচাষি করিম মিয়া (ছদ্মনাম) নিজের খেতে গিয়ে লক্ষ্য করলেন, গাছের পাতায় অদ্ভুত কিছু কালো দাগ দেখা দিয়েছে। আগেকার দিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাকে দ্রুত দূরের কৃষি দোকানে ছুটতে হতো। কিন্তু আজ তিনি তার মুঠোফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে জানতে চাইলেন—আসলে সমস্যাটি কী এবং এর সমাধান কী হতে পারে?

ঠিক এই জায়গাতেই কার্যকর হয় কম্পিউটার ভিশন বা যন্ত্রদৃষ্টি, যা মূলত ছবি দেখে চিনতে সক্ষম এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। হাজার হাজার সুস্থ এবং রোগাক্রান্ত পাতার ছবি বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তি শেখে, কোন ধরনের দাগ কোন রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান, সেচের সঠিক সময় নির্ধারণ এবং বাজারের সম্ভাব্য দর আন্দাজ করার ক্ষেত্রেও এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে; এআই ভুল করতে পারে বা মাঝেমধ্যে ভুল তথ্য দেয়। বিশেষ করে অচেনা কোনো ফসল কিংবা ভিন্ন ধরনের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রকট হয়। যদি ভুল রোগ শনাক্ত করে ভুল কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তবে ফসল এবং অর্থ—দুটোই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর পাশাপাশি গ্রামগঞ্জে ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার অভাব একটি বড় বাধা, যার ফলে প্রান্তিক চাষিদের অনেকেই এই সুবিধা নিতে পারছেন না।

তাই কৃষি কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, জমির মাটি, আবহাওয়া এবং বীজের জাত প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা হয়ে থাকে। এআই-এর দেওয়া পরামর্শকে কেবল প্রাথমিক ধারণা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কোনো ধরনের ওষুধ বা কীটনাশক ছিটানোর আগে অবশ্যই স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

করিম মিয়া তার ফোনের মাধ্যমে ছবি তুলে সম্ভাব্য রোগের নাম জানতে পেরেছিলেন, তবে ওষুধ ছিটানোর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি কৃষি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নেন। এর ফলে তার ফসল যেমন রক্ষা পেল, তেমনি অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকেও তিনি বেঁচে গেলেন।