৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারেরও বেশি প্রার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন। আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই বিসিএসে আবেদনের সুযোগ ছিল। তবে চূড়ান্তভাবে কতজন প্রার্থী আবেদন করেছেন, তা জানতে হবে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, আবেদনের সময়সীমা আজ শেষ হলেও প্রার্থীদের ফি জমা দেওয়ার জন্য ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি জমা না দিলে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয় না। ফলে শেষ পর্যন্ত যারা ফি জমা দেবেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হবেন, কেবল তারাই প্রিলিমিনারি ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের আওতায় মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসক ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনকে সহকারী সার্জন পদে এবং বাকি ৩০০ জনকে ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি ৫১তম বিসিএসের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। দেশে চিকিৎসকদের যে সুনির্দিষ্ট চাহিদা রয়েছে, তা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হচ্ছে।
মূলত দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান চিকিৎসক-সংকট দূর করাই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি সরকার বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত চাহিদাপত্র পাওয়ার পরপরই পিএসসি দ্রুততম সময়ে এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসক ক্যাডার পদে নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনকে সহকারী সার্জন পদে পদায়ন করা হবে এবং বাকি ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সেই নীতিগত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হিসেবেই পিএসসি এই বিশেষ বিসিএসের উদ্যোগ নিয়েছে।
পিএসসি সূত্রে আরও জানা গেছে, চিকিৎসকদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ বিসিএসে লিখিত পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। সাধারণত ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর ফলে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করে নতুন চিকিৎসকদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা সম্ভব হবে।