দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের মান যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা কামনা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আমদানিকৃত চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গম সংরক্ষণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।” এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রদূতের জবাবে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তার গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা না থাকায় উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন।
সভার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মি. এরিন কোভার্ট, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং খাদ্যশস্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।