গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ছয় বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে জামিন চাইবেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে আমি জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালতে বলেছি, ঘটনার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনা সত্য হলে শিশুটিকে পুনরায় মাদ্রাসায় পাঠানো হতো না। আমরা বলেছি, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছোট একটি ঘটনাকে বড় করে দেখানো হয়েছে। আদালতে আমার আসামির নির্দোষ প্রমাণ করব। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে জামিন চাইব। আমার আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হলেও তারা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।’ মাদ্রাসায় গিয়ে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘মব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনবিরোধী।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন বলেন, আদালতে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বাদীপক্ষে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, জামিন আবেদনের শুনানির শুরুতে আদালত ভুক্তভোগী শিশুর ২২ ধারার জবানবন্দি দেখতে চান। মামলার পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়’ ছয় বছর বয়সি এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। পরে মামলায় মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।