বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের উদ্দেশ্যে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির লেখা একটি খোলাচিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক তাঁর ফেসবুক পাতায় চিঠিটি শেয়ার করার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতে এক চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বলিউডের অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে দুই দুষ্কৃতকারী গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের কুখ্যাত সংগঠন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। এই অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই অক্ষয় কুমারের প্রতি ধ্রুব রাঠির এই খোলাচিঠি লেখার সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে অক্ষয় কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-ঘনিষ্ঠতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ২০১১ সালে দিল্লির মসনদে বসার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি যাদের একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, অক্ষয় কুমার ছিলেন তাদের অন্যতম। এই রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি মাথায় রেখেই ইউটিউবার রাঠি তাঁর চিঠিতে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চিঠির শুরুতেই ধ্রুব রাঠি লিখেছেন, ‘অক্ষয়, এই গুন্ডাদের যে অমিত শাহই নিরাপত্তা দিচ্ছেন, তা তুমি ভালো করেই জানো। তোমার জীবিকা, তোমার পরিবার এবং হিন্দি ছবির জগতে তোমার সহ-অভিনেতাদের নিরাপত্তার সব দায়িত্ব তাঁরই।’

এরপর অক্ষয় কুমারকে সতর্ক করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তাঁর সামনে যত ক্রীতদাসের মতো আচরণ করবে, ততই তিনি তোমাদের জঞ্জালের মতো ব্যবহার করবেন। কিন্তু যে মুহূর্তে তোমরা এককাট্টা হয়ে সাহসী পদক্ষেপ নেবে, তখনই তাঁরা চমকে যাবেন।’

বলিউড অভিনেতার প্রতি রাঠির আহ্বান ছিল আরও জোরালো। তিনি লিখেছেন, ‘পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মের জন্য যথেষ্ট সুনাম ও অর্থ উপার্জন করে ফেলেছ। গুন্ডারাজের এই একনায়কতন্ত্রের মেয়াদ আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ফুরাবে। প্রশ্ন হলো, এরপর এই সময়কার স্মৃতি তুমি কী নজরে দেখবে? উত্তরসূরিদের তুমি কী বলবে?’

চিঠির পরবর্তী অংশে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘পরবর্তী প্রজন্মকে কি তুমি বলতে পারবে যে নিরাপত্তার অলীক আশায় তুমি মাথা নত করেছিলে? নাকি তাদের বলতে পারবে যে নিজের সাহস দেখানোর মতো হিম্মত করেছিলে? ইমরান খান, প্রকাশ রাজদের মতো ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থদের দেখে অনুপ্রাণিত হও।’

চিঠির শেষাংশে রাঠি লিখেছেন, ‘আমি জানি যে পুরো ইন্ডাস্ট্রি বিশাল চাপে রয়েছে। তবে যত তাড়াতাড়ি আমরা আমাদের দেশ ফিরে পাব, ততই তুমি ও তোমার সহ-অভিনেতারা নিজেদের প্রিয় স্বাধীনতা ও শান্তি ফিরে পাবে।’

অভিজিৎ দিপকের ফেসবুক ওয়ালে এই চিঠি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীরা দুই ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একজন ব্যবহারকারী অভিজিৎ দিপককে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। নিজেদের অর্থ, নিরাপত্তা ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা সবাই এখন ক্ষমতার সামনে নতি স্বীকার করেছে। ইমরান খান, প্রকাশ রাজ, শাবানা আজমি, নাসিরুদ্দিন শাহ ও জয়া বচ্চনের মতো কয়েকজন শুধু ব্যতিক্রম রয়েছেন। তাঁদের কথা চিন্তা করা মানে সময় নষ্ট করা। তবে যখন পালাবদল ঘটবে এবং আপনারা ক্ষমতায় আসবেন, সঙ্গে সঙ্গে এরাই লাফিয়ে এসে আপনাদের সামনে পড়বে।’

এর বিপরীতে অন্য এক ব্যবহারকারী দিপকের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আপনি যতই উসকানি দিন, আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, এই দেশটি নত হবে না। দেশের জনগণ সবকিছু দেখছে এবং ইতিমধ্যেই আপনাকে ভালোভাবে চিনেছে। আপনার সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভারতের জনগণ তাদের দেশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। মনে রাখবেন, ভারতের ঐক্য এবং তার জনগণের বিশ্বাসের চেয়ে কেউ বড় নয়। জয় হিন্দ! বন্দে মতেরম!’

আরেকজন নেটিজেন আশাবাদী হয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের যুবসমাজ ভারতের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জাগায়। তারা এক দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় না। তারা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করে। তারা নির্ভীক। জয় তাদের হবেই।’