শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে দলটির সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ওই চার নেতার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত।
আহত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এই চার নেতা মূলত ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই গতকাল সন্ধ্যার পর সালাউদ্দিন ওই চার নেতাকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সালাউদ্দিনের ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাঁদের ওপর হামলা চালান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন এবং রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে সালাউদ্দিন ছৈয়াল মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নোমান চোকদার ও মাসুদ খান তাঁর কাছে এসে ঠিকাদারি কাজ ও জমি কেনাবেচার ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। এ জন্য তাঁর কাছে বিনিয়োগের টাকা চান।
সালাউদ্দিনের দাবি, গত চার মাসে দুই দফায় তিনি তাঁদের ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেও তাঁকে মুনাফার ভাগ দিচ্ছিলেন না এবং বিনিয়োগের টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না। গতকাল সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাঁরা নানা টালবাহানা করছিলেন। এই প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, “তাঁদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।”
অন্যদিকে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নোমান চোকদার মুক্তকণ্ঠকে জানান, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁদের ডেকে নিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। নোমানের দাবি, সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই এবং কেন তাঁদের মারধর করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
মাসুদ খান আরও অভিযোগ করেন যে, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁকে ও নোমানকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিন আরও কয়েকজনকে নিয়ে তাঁদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে হবে কেন—এমন প্রশ্ন করার সাথে সাথেই তাঁদের মারধর শুরু হয়। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের একজন বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, মারধরের ঘটনায় আহত চারজনকে গতকাল রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এক্স-রে করার পর তাজুল নামের একজনের বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি জানিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”