মাঠে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের মুখে হাত রেখে কিছু বলার অভিযোগে লাল কার্ড দেখার পর মাঠ ছাড়ার সময় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শনিবার রাতে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের khuônাকারে সান্তোস ও বাহিয়ার মধ্যকার ম্যাচে এই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়, তবে খেলার ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নেইমারের লাল কার্ড এবং মাঠের ভেতরে তাঁর আক্রমণাত্মক আচরণ।

উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ম্যাচের প্রথমার্ধে। বল দখলের লড়াই চলাকালীন বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্টরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। এরপর প্রতিপক্ষের দিকে বল ছুড়ে মারার কারণে সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে কার্ড পাওয়ার পরও শান্ত হননি নেইমার। নেস্টরের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পাশাপাশি বাহিয়ার অন্যান্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। এমনকি এক পর্যায়ে বাহিয়ার কোচ রজেরিও সেনির সঙ্গেও কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

প্রথমার্ধ শেষে নেইমারের আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন রদ্রিগো নেস্টর। তাঁর অভিযোগ, নেইমার শুধু ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে নয়, বরং বাহিয়া ক্লাবকেও চরমভাবে অসম্মান করেছেন। তবে নেইমার ঠিক কী কথা বলেছিলেন, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি নেস্টর। তাঁর যুক্তি ছিল, “এমন কথা শিশুদের সামনে বলা ঠিক হবে না।” নেস্টরের এই মন্তব্যের পর দুই খেলোয়াড়ের মধ্যকার বিরোধ যে আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায় বিরতির পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে মাঠে ফিরে আবারও নেস্টরের সঙ্গে তর্কে জড়ান নেইমার। নেস্টর তাঁকে খেলা শুরু করার জন্য সরে যেতে বললে, নেইমার তাঁর মুখের ওপর হাত রেখে কিছু বলেন। এই ঘটনার পরপরই রেফারি সাভিও সাম্পাইওর কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান নেস্টর।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা নেন প্রধান রেফারি। ভিডিও ফুটেজ দেখার পর নেইমারের আচরণকে শাস্তিযোগ্য অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

লাল কার্ড দেখার পর নেইমারের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তিনি নেস্টরের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত অন্য খেলোয়াড়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ম্যাচের আনুষ্ঠানিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক পর্যায়ে নেইমার মারকোস ভিক্টরের গলা চেপে ধরেছিলেন। এরপর তিনি মাঠ ত্যাগ করেন।

তবে মাঠ ছাড়ার পথে ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার পেদ্রো লোপেসের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নেইমার। তিনি দাবি করেন, নেস্টরের সঙ্গে তিনি কেবল হাসিঠাট্টা করছিলেন। মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি ভুল হিসেবে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, কিছু বলার আগেই নেস্টর রেফারির কাছে অভিযোগ করেছেন।

নেইমার বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে মজা করছিলাম, হাসাহাসি করছিলাম। এরপর নেস্টরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছি, মুখের ওপর হাত রাখাটা আমার ভুল হয়েছে। আমি কিছু বলিইনি, অথচ সে এরই মধ্যে হাত তুলে ফেলেছে। ফুটবলে এর চেয়ে বড় নোংরা চাল আর হয় না। তবে আমি নেস্টরকে দেখে নেব।”

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম স্পোরটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠ ছাড়ার সময় নেস্টরকে ‘বদমাশ’ বলেও মন্তব্য করেন নেইমার।

এই লাল কার্ডের ফলে বড় ধাক্কা খেল সান্তোস। প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড এবং পরবর্তীতে লাল কার্ড পাওয়ার কারণে নেইমার আগামী দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এর ফলে পালমেইরাসের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত থাকবেন এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক ম্যাচ বৃদ্ধি পেয়েছে।