পেশাদার ফুটবলের আঙিনায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে পা রেখেছিলেন নেইমার। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৪ বছর। দীর্ঘ এই ফুটবল ক্যারিয়ারে মাঠের লড়াই এবং খেলাধুলাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছুদিন এই খেলা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে চান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। অবসরের পর এক বছর একেবারেই কোনো ফুটবল সংশ্লিষ্ট কাজ করবেন না বলে পরিকল্পনা জানিয়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।
সান্তোসের সাম্প্রতিক সময়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেশ উচ্ছ্বসিত নেইমার। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও এখন থেকেই চিন্তা করছেন এই ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
‘ভারান্দা গুরমে’ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসরের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করে নেইমার বলেন, “অবশ্যই, খেলা ছাড়ার পর আমি এক বছর একেবারেই কিছু না করে কাটাব। এভাবে চলব—ধরুন, আজ যদি ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করে, খেলব। আর যদি কিছুই করতে ইচ্ছা না করে, তাহলে কিছুই করব না।”
ফুটবলের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা থাকলেও টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখতে খুব একটা পছন্দ করেন না নেইমার। সর্বশেষ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া এই তারকা জানান, টিভিতে ফুটবল দেখতে বসলে তিনি বরং বিরক্ত হয়ে পড়েন। তবে বাস্কেটবল মাঝেমধ্যে দেখতে তাঁর ভালো লাগে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি (টিভিতে ফুটবল দেখা) পছন্দ করি না। বাস্কেটবল ভালো লাগে, তবে মাঝেমধ্যে। ফুটবল দেখতে বসলে আমি রেগে যাই।”
কেন টেলিভিশনে ফুটবল দেখা তাঁর ভালো লাগে না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা। তাঁর মতে, সাক্ষাৎকারে কিংবা বন্ধুদের কাছে এই কথা বললে কেউ সহজে বিশ্বাস করতে চায় না। ফুটবলকে তিনি ভালোবাসেন ঠিকই, তবে সেই ভালোবাসার মূল জায়গা হলো মাঠে খেলা। সোফায় বসে টেলিভিশনে ম্যাচ দেখার মাধ্যমে তিনি সেই কাঙ্ক্ষিত তৃপ্তি পান না।
নেইমার বলেন, “সাক্ষাৎকারে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় যখন এসব বলি, কেউ বিশ্বাস করে না। আমি ফুটবল ভালোবাসি, কিন্তু খেলতে ভালোবাসি। সোফায় বসে টিভি চালিয়ে একটা ম্যাচ দেখা আমার কাছে যথেষ্ট নয়।”
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে নেইমার জানান, তখন তাঁর সতীর্থরা যখন সঙ্গে থাকতেন, তখন শনিবার ও রোববার সারাদিন টেলিভিশনে শুধু ফুটবলই চলত। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা খেলা দেখতেন, যা নেইমারের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর ছিল।
সেই অভিজ্ঞতার কথা তাঁর নিজের ভাষায়, “প্যারিস ও বার্সেলোনায় সতীর্থরা যখন আমার সঙ্গে থাকত, প্রতি শনিবার ও রোববার টিভিতে শুধু ফুটবল চলত। আমি এতটাই বিরক্ত হতাম যে বসার ঘরেই থাকতাম না। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফুটবল দেখা—আমি এটা সহ্য করতে পারি না।”
তবে ফুটবল থেকে তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চান না। টেলিভিশনে সরাসরি ম্যাচ দেখতে অনীহা থাকলেও ফুটবল নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্ট দেখতে পছন্দ করেন নেইমার।
বর্তমানে মাঠের ব্যস্ততা নিয়েই কাটছে তাঁর সময়। সান্তোসের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলা এই তারকা আগামী শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবেন।