নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল হাসান (২৪) নামের এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ছিনতাই হওয়া জিক্সার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামে আক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এই দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ যুবক কামরুল হাসান ওই বাড়ির বাসিন্দা মো. ইউসুফের ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন দর্জি।

হাসানের খালাতো ভাই মো. শান্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসান বর্তমানে চট্টগ্রামে দর্জির কাজ করেন এবং মাত্র দুই দিন আগে ছুটিতে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন। শনিবার বিকেলে তিনি তার মোটরসাইকেলে করে খালাতো ভাই রাকিবকে (২০) সাথে নিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। তারা যখন বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছান, তখন বাংলাবাজার এলাকার হারুন এবং আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের পথরোধ করে। এরপর একপর্যায়ে নুরু নামের এক ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে হাসানের বুকের ডান পাশে এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করা হয়।

হাসানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিবিদ্ধ হাসান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার একটি হাতের বাহুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটের ওপরের অংশেও বুলেটের মতো আরেকটি আঘাত আছে, তবে সেখানে কোনো বুলেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।”

এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নুরুর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তার মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি, যার ফলে তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুল কবির জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।