কক্সবাজারে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি যাচাই না করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আবাসিক হোটেলের কক্ষ ভাড়া দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক এবং ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন।

আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন। নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ মিলনায়তনে এই বিশেষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর মালিকপক্ষের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় শামীম আরা স্বপ্না উল্লেখ করেন যে, কক্সবাজারের কিছু হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা কথিত প্রেমিকের সঙ্গে এসে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে জানান, উপযুক্ত বয়স না হওয়া সত্ত্বেও পরিচয়পত্র ছাড়াই তাদের কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নেতিবাচক ঘটনা ঘটছে।

শামীম আরা স্বপ্না আরও বলেন, ‘কক্সবাজার দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। এখানে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। পরিবারের সঙ্গে এলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের থাকার বিষয়টি একরকম; কিন্তু কথিত প্রেমিকের সঙ্গে এলে পরিচয় যাচাই না করে থাকার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পর্যটন শিল্পের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের স্বার্থে কক্সবাজারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে। নেতিবাচক প্রচারণা যাতে পর্যটকদের কক্সবাজারবিমুখ না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক থাকা উচিত।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। বিশেষ করে গত ১৭ অক্টোবর মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু এবং ২১ অক্টোবর হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে পাঁচ পর্যটকের প্রাণ হারানোর মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ‘নিরাপদ পর্যটন নগর গড়তে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-রেস্তোরাঁর চার শতাধিক অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকেও কিছু দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীরা ওয়ান–স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সুপারিশ করেছেন। আমরা এই সেন্টার কীভাবে করা যায়, এ জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কমিটিতে প্রতিটি সংস্থার লোক থাকবে। তাঁদের দেওয়া সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’