লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে। বিএসএফ সদস্যদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের পর স্থানীয় কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ককটেল ও গুলি ছুড়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকার ৮৩৭ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস উপপিলার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কৃষকদের বিবরণ অনুযায়ী, তারা ওই সময় জমিতে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কৃষকদের জমি ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা লাঠি দিয়ে কৃষকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। বিএসএফ সদস্যদের এই আচরণের প্রতিবাদে কৃষকরাও লাঠি নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। কৃষকদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ককটেল, সাউন্ড বোমা এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।
সীমান্তে এই উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল দল। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় বামনদল এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
লালমনিরহাট ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও বলা হবে।”
বিএসএফের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।