ভোলার লালমোহন উপজেলায় শিমগাছ রোপণকে কেন্দ্র করে চরম বিরোধের জেরে মো. ফিরোজ (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান এলাকার ডাক্তার বাড়িতে। নিহত ফিরোজ ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম আলীর ছেলে। তিনি কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ফিরোজ একই বাড়ির কাজলের ঘরের পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাজলের স্ত্রী জান্নাত ওই বেড়াটি কেটে ফেলেন। নামাজ শেষে ফিরে এসে ফিরোজ বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তাকে বাধা দিলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জান্নাতের স্বামী কাজল সেখানে এসে দা দিয়ে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আঘাতের ফলে গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজকে দ্রুত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে স্বজনেরা তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকায় নিয়ে যান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার বিষয়ে লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাজলকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”