মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করার সময় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে (৩৮) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ পরিবহন কাউন্টারে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী গ্রামের মো. কুতুবউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শাকের হোসেন মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের অভ্যাসের মতোই আজ ভোরেও তিনি কাউন্টারে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ভোর ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন দুর্বৃত্ত কাউন্টারের সামনে এসে থামে। তাদের মধ্যে একজন মোটরসাইকেলটি সচল রেখে বাইরে উচ্চ শব্দ করতে থাকে এবং অন্যজন দ্রুত কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকে ওই ব্যক্তি শাকেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির আঘাতে শাকের হোসেন সাথে সাথেই নিজের চেয়ারে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে কাউন্টারের টেবিলে সামান্য রক্তের দাগ দেখে উপস্থিত সবাই ধারণা করেছিলেন যে, তিনি হয়তো স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তার মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন শনাক্ত করেন।

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মাইনুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে জানান, “সকালে রোগীটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর প্রথম দর্শনে আমাদের ধারণা হয়েছিল তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরবর্তীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার মাথার পেছনে গুলির ক্ষত একটি সরু ছিদ্র দেখা যায়। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর মৃত্যুর মূল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এই বিষয়ে মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, “ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ ও তদন্তকারী টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।”

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সাতসকালে এমন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও পার্শ্ববর্তী পারনান্দুয়ালী এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।