মাগুরার শালিখায় ১২ বছর আগের একটি হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়ে সুলতান মোল্যা (২৫) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন এবং পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সিংড়া বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার বলাই নাঘোসা গ্রামে সুলতানের চাচা ইকতার মোল্যা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় আগামী ১ অক্টোবর ঘোষণার কথা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে সিংড়া বাজারে বলাই নাঘোসা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. শামসু ও তার সমর্থকেরা জাফর মোল্যার কাছে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন এবং হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এতে জাফর মোল্যার সমর্থক সুলতান মোল্যাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত সুলতান মোল্যাকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১২ সালের ওই হত্যা মামলার আসামিদের কয়েকজন শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব চকলেট মুন্সির সঙ্গে রাজনীতি করেন। পুরোনো হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ সংঘর্ষে সুলতান মোল্যার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শালিখা থানার ওসি (তদন্ত) দেবব্রত রায় বলেন, "সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"