মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমানকে হত্যার অভিযোগে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন এবং পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামি ইসমাইল হোসেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথকেও একই মামলায় জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাঁদের মাগুরার শালিখা আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় বিপ্লব কুমার নাথকে গ্রেপ্তার করে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইসমাইলের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান জানান, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পর নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। এরপরই মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা এবং এ ধরনের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, “এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, “এ বিষয় বিস্তারিত বলার জন্য আমি অথোরাইজ না।”
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ইসমাইল মাগুরার শালিখা থানায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। সে ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিল।”
উল্লেখ্য, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের জামাতা। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।