গাজীপুরে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পকে অপরিকল্পিত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে এ ভুলের ওপর নতুন করে আর কোনো ভুল না করার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনে ‘বিআরটি প্রকল্পের সমস্যা ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘গাজীপুর অত্যন্ত জনবহুল একটি এলাকা। এমন ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল, যা এখন প্রকৌশলীদের কাছেও স্পষ্ট। কেউ কেউ ভুলের বিষয়টি স্বীকারও করছেন। তবে এ ভুলের ওপর যেন নতুন করে আর কোনো ভুল করা না হয়।’

তিনি বলেন, ‘উপদেশ দেওয়া সহজ। কিন্তু সমস্যার সমাধান করা কঠিন। তাই শুধু সমস্যার কথা বললেই হবে না, বরং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।’

বিআরটি প্রকল্পের বিকল্প পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মিলন বলেন, ‘গাজীপুরের সড়ক পরিমাপ করে দেখলে বোঝা যাবে, দুই পাশে সঠিকভাবে লেন তৈরি ও সড়ক সংস্কার করা হলে বর্তমান প্রকল্পের ব্যয়ের চার ভাগের এক ভাগ অর্থ দিয়েও যানবাহন সহজে চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বিআরটি ব্যবস্থা চালু থাকলেও সেসব দেশের জনসংখ্যা, অবকাঠামো ও সড়কের প্রশস্ততার সঙ্গে গাজীপুরের বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। এত সরু সড়ক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

প্রকল্পের অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সড়কের ওপর নির্মিত উঁচু কাঠামো ও স্টেশনগুলো দেখে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে সড়কের বাস্তব অবস্থা ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল।’

বৈঠকে আলোচকরা বিআরটি প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় এনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত।

গাজীপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিআরটি প্রকল্পের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।