সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনার সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার প্রক্রিয়া চলাকালীন টাকার স্তূপের ভেতর থেকে ওই চিঠিটি উদ্ধার করা হয়।

চিঠির বিষয়বস্তু ছিল বিএনপির সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়সসীমার মতো কিছু সাংগঠনিক নিয়মকানুন প্রবর্তনের অনুরোধ।

তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “জনাব তারেক রহমান আমি চাই, বিএনপির সদস্য হতে এসএসসি পাস অথবা জিপিএ ২.৫ পয়েন্ট এবং কর্মী হতে এইচএসসি পাস ও জিপিএ ৩.৫ থাকার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করুন। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ যেন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে।”

চিঠিতে প্রেরকের কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তিনি জানিয়েছেন যে, ২০১১ সালে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে সরে দাঁড়ান। চিঠির শেষ অংশে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘I want the change to come through you.....’।

এদিকে শনিবার সকালে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ এবং দুটি দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো খোলা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধি এবং উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থবারের মতো মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সেই হিসেবে প্রায় ৩৫ দিন পর এবার পঞ্চমবারের মতো এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এরপর ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর—এই চার দফায় দানবাক্স ও ডেগ খুলে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। পূজার দীর্ঘ ছুটিতে মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এবার আগের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এখন থেকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়মিত গণনা করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগৃহীত দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নমূলক কাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে।