সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ এবং দুটি দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো খোলা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাক্সগুলো খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগৃহীত অর্থের গণনার কাজ শুরু করা হয়।

এই পুরো গণনা কার্যক্রমটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সিলেটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং মাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে টাকা গণনার কাজ চলছে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থবারের মতো মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সেই হিসেবে প্রায় ৩৫ দিন পর এবার পঞ্চমবারের মতো পুনরায় গণনার কাজ শুরু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর—এই চার দফায় দানবাক্স ও ডেগ খুলে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ পাওয়া গিয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সম্প্রতি পূজার দীর্ঘ ছুটিতে মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এবার আগের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা হতে পারে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এখন থেকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়মিত গণনা করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগৃহীত দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নমূলক কাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ব্যয় করা হবে।