সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর চতুর্থ দফা গণনা কার্যক্রম চলমান। এই গণনায় একযোগে ৬০-এর বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাজার মসজিদের আঙিনায় শুরু হয় এই গণনা। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাজারে রাখা পুরোনো ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা সিলগালা দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

মাজার মসজিদের আঙিনায় রাখা নোটগুলো একত্র করে মেশিনের সাহায্যে গণনা করা হচ্ছে। স্থানীয় দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজারে আসা দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দারা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মীরা সবাই এই গণনায় যুক্ত আছেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন আনসার ও জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তাকর্মীরা।

এর আগে, গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছিল। দিনব্যাপী ওই গণনায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত জুনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে পুরোনো ডেগের পাশাপাশি নতুন তিনটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। দানবাক্স ও ডেগে ডাবল তালা দিয়ে সিলগালা করা হয়। এর তিন দিনের মাথায় সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সিলেট ছাড়ার আগে ২২ জুন শাহজালাল মাজারের প্রায় ১৩০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। সেদিন চার দিনে জমা পড়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়।

এরপর ১৯ দিন পর, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। সেদিন ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া তিন দফার গণনায় বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া গেছে।

এদিকে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনায় একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গত জুলাইয়ে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও সেই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও নীতিমালা এখনও প্রকাশ হয়নি, প্রতি মাসে অন্তত একবার দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।