বিশ্বজুড়ে ঋণের বোঝা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যার মোট পরিমাণ বর্তমানে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এই ক্রমবর্ধমান ঋণের সাথে সাথে সুদের চাপও বাড়ছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম এবং দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এসেছে।
আইএমএফ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বল্প মজুরি, আবাসনসংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেটের ঘাটতির মতো নানা সমস্যার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছেন। এই ব্যাপক অস্থিরতার মূলে রয়েছে দেশগুলোর চরম আর্থিক সংকট। বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ফলে অনেক দেশই এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই সামগ্রিক হিসাবের মধ্যে সরকারি ঋণ ছাড়াও পরিবার এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সাথে এই দেনার পরিমাণ ভাগ করলে দেখা যায়, মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার ডলারে।
বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে ঋণের এই বৃদ্ধির বড় অংশটি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ঋণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন, তৃতীয় স্থানে জাপান, চতুর্থ স্থানে যুক্তরাজ্য এবং পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ঋণের বর্তমান চিত্রও উঠে এসেছে। বৈশ্বিক ঋণ তালিকায় বাংলাদেশ ৪৫তম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো সহনীয় পর্যায়ে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের এই মোট ঋণ দেশটির জিডিপির ৪০ শতাংশ। তবে এই ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যার ফলে জনসেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশকে কর বৃদ্ধি করা অথবা সরকারি ব্যয় কমানোর মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।